ভোটের আগে ডায়মন্ড হারবারে শক্তি প্রদর্শনের এক বিরাট ছবি তুলে ধরল তৃণমূল কংগ্রেস। নূরপুর থেকে পাতড়া পর্যন্ত দীর্ঘ বাইক মিছিল মুহূর্তে পরিণত হল জনসমুদ্রে—যেখানে স্লোগান, পতাকা আর জনতার উচ্ছ্বাস মিলিয়ে তৈরি হল রাজনৈতিক শক্তির স্পষ্ট বার্তা। এই মিছিলের সামনের সারিতেই ছিলেন তৃণমূল নেতা সামিম আহমেদ, যিনি কার্যত এই কর্মসূচিকে এক আলাদা মাত্রা এনে দেন।
শুক্রবার ডায়মন্ড হারবার ২ নম্বর ব্লকে আয়োজিত এই বাইক মিছিল ছিল তৃণমূল প্রার্থী পান্নালাল হালদারের সমর্থনে। নূরপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে পাতড়া নতুন হাট মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি, দলীয় পতাকার ঢেউ এবং একসঙ্গে ওঠা স্লোগান—সব মিলিয়ে রাস্তাজুড়ে দেখা যায় এক সংগঠিত শক্তির প্রদর্শন।



এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল কংগ্রেসের কোঅর্ডিনেটর তথা মগরাহাট পশ্চিমের প্রার্থী সামিম আহমেদ। কালো টি-শার্ট ও নীল জিন্সে মিছিলের একদম সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তাঁকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সংগঠনের জনপ্রিয় মুখ হিসেবে তাঁর উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা যোগায়।
স্থানীয় নেতৃত্বের মতে, এই বিপুল জনসমাগমই প্রমাণ করছে যে ডায়মন্ড হারবারের মানুষ এখনও উন্নয়নমুখী রাজনীতির উপরই আস্থা রাখছে। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই আগামী নির্বাচনের ইঙ্গিত বহন করছে।
মিছিল শেষে সামিম আহমেদ বলেন, “এই মিছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি মানুষের আবেগ, বিশ্বাস এবং আস্থার প্রতিফলন। ডায়মন্ড হারবারের মানুষ বিভাজনের রাজনীতি চায় না, তারা শান্তি ও উন্নয়নের পথেই বিশ্বাসী—আজকের এই অংশগ্রহণ তারই প্রমাণ।”


একইসঙ্গে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণও শানিয়েছে তৃণমূল। দলের অভিযোগ, বিভ্রান্তিকর প্রচার ও জনবিরোধী রাজনীতির মাধ্যমে বিজেপি ভোটারদের প্রভাবিত করতে চাইছে। তবে এই বিপুল জনসমর্থনই সেই প্রচেষ্টার জবাব বলে দাবি শাসকদলের।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে ডায়মন্ড হারবারে এই বাইক মিছিল রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল। এখন নজর ভোটের বাক্সে—এই জনসমর্থন কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটাই দেখার।








