নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির ছবি সামনে এসেছে। মনোনয়ন পর্বে জ্বলছে ভাঙড়। বোমাবাজি হয়, কয়েক রাউণ্ড গুলি চলে, কয়েকদিনেই অশান্ত হয়ে পড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই এলাকা। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গিয়েছিলেন। ভাঙড় ইস্যুতে রাজ্যপালকে ফের নিশানায় আনলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র।
আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় বাহিনীর সিদ্ধান্তে খুশি মদন, বিরোধীদের খোঁচা তৃণমূল বিধায়কের
শনিবার (১৭ জুন) কলকাতা প্রেস ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। সেখানেই সাংবাদিকদের সামনে রাজ্যপালকে কটাক্ষ করে তিনি বলন, “শকুন ভাগাড়ে থাকে জানতাম। এখন দেখছি শকুন থাকে আকাশে, নজর রাখে ভাঙড়ে। একটু উত্তরপ্রদেশের জেলাগুলোয় যান। আপনি নিজেকে কি হেমেন মণ্ডল তৈরি করবেন ভেবেছেন? বাংলার নয়া হেমেন মণ্ডল।” গতকালই রজ্যপালের গায়ের রঙ নিয়ে কটাক্ষ করতে দেখা যায় মদন মিত্রকে। একদিনের মাথায় ফের তৃণমূল বিধায়কের নিশানায় সিভি আনন্দ বোস।

মনোনয়ন পর্বে অশান্তির ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার কড়া বিবৃতি দিয়ে রাজ্যপাল জানিয়েছিলেন, ‘বাংলায় এই সন্ত্রাস চলতে পারে না। শয়তানের খেলা শেষ হওয়া উচিৎ।’ এরপর গতকাল রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তাঁকে ‘কালো শয়তান’ বলে ব্যঙ্গ করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “রাজ্যপাল কি শয়তানের খেলা দেখেছেন এখনও? ওঁর চেহারাটাই শয়তানের মত। কালো শয়তান। কেলে শয়তান যাকে বলে।” রাজ্যপালকে নিয়ে মদন মিত্রের এহেন মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য-রাজনীতিতে কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। যদিও এনিয়ে মদন মিত্র বলেছেন, ““আই অ্যাম ভেরি হ্যাপি। যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোট করতাম, তাহলে বলত ফাঁকা মাঠে গোল দিল, আমাদের থাকতে দিল না।” এখানেই শেষ নয়! বিজেপি যদি ৬৫ হাজার মনোনয়ন জমা দিতে না পারত তাহলেও তৃণমূলের ঘাড়েই দোষ ফেলত বলে দাবি তৃণমূল নেতার।
শকুন থাকে আকাশে, মদন মিত্রের নিশানায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস




