দুর্গাপুজো মানেই সিংহবাহিনী দেবী দুর্গার মূর্তি। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন সিংহকেই দেবীর বাহন হিসেবে বেছে নেওয়া হল? হিন্দু ধর্মে প্রতিটি দেবদেবীর একটি করে নির্দিষ্ট বাহন রয়েছে, আর তার পেছনে লুকিয়ে আছে একেকটি পৌরাণিক কাহিনি। দেবী দুর্গার বাহন সিংহ সেইসব কাহিনির মধ্যেই অন্যতম।
দেবীর তপস্যা ও সিংহের আবির্ভাব
পুরাণ অনুযায়ী, মহাদেবকে স্বামী রূপে পাওয়ার জন্য দেবী পার্বতী দীর্ঘ তপস্যায় মগ্ন হন। সেই সময় এক ক্ষুধার্ত সিংহ দেবীর দিকে শিকারের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসে। কিন্তু ধ্যানমগ্ন দেবীকে দেখে আক্রমণ না করে সিংহটি স্থির হয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। তপস্যা শেষে দেবী সেই সিংহকেই কৌশিকী রূপে নিজের বাহন হিসেবে গ্রহণ করেন। এই কাহিনি থেকেই সিংহ দেবীর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

হিমালয়ের দান করা সিংহ
শ্রীশ্রী চণ্ডীতে উল্লেখ আছে, অসুর বধের সময় দেবতারা দেবীকে অস্ত্রশস্ত্র দান করেছিলেন। সেই সময়ে গিরিরাজ হিমালয় মা দুর্গাকে উপহার দেন এক অদম্য সিংহ। দেবীর শক্তি, সাহস ও পরাক্রমের প্রতীক হয়ে ওঠে সেই বাহন। তখন থেকেই সিংহ দেবীর বীরত্বের প্রতীক হয়ে রয়ে গেছে।
শার্দুলবাহিনী রূপ
সবসময় দেবীকে সিংহবাহিনী হিসেবে দেখা হলেও, কোথাও কোথাও তাঁকে শার্দুলবাহিনী, অর্থাৎ বাঘের বাহন সহ রূপেও বর্ণনা করা হয়েছে। সিংহ ও বাঘ – উভয়ের মধ্যেই আছে অদম্য শক্তি ও সাহস। কিছু তান্ত্রিক মতবাদ এবং আঞ্চলিক সংস্কৃতিতে এই রূপ বিশেষভাবে পূজিত হয়ে থাকে।

প্রতীকী অর্থ ও অসুর বাহন
কিছু তান্ত্রিক ধারণায় বলা হয়, অসুরও দেবীর বাহন হতে পারে। এর প্রতীকী ব্যাখ্যা হল, দেবী এতটাই শক্তিশালী যে শত্রুকেও তিনি বশে আনতে সক্ষম। যদিও এটি প্রচলিত নয়, তবুও এই কাহিনি দেবীর সর্বশক্তিমান রূপকে আরও গৌরবান্বিত করে।
সিংহ বাহনের প্রতীকী তাৎপর্য
সিংহ মানেই শক্তি, সাহস, রাজকীয়তা ও ভয়হীনতা। তাই দেবী দুর্গা সিংহের উপর আসীন হয়ে মহিষাসুর বধ করেন, যা প্রতীকীভাবে জানায়—অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করে শুভ শক্তির জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এই কারণেই যুগে যুগে দুর্গাপুজোর প্রতিমায় সিংহবাহিনী দেবী দুর্গার উপস্থিতি অপরিহার্য।
দুর্গাপুজোর দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মা দুর্গার সিংহবাহিনী রূপ ভক্তদের মনে নতুন শক্তি, সাহস ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে। এই পৌরাণিক কাহিনিগুলি মনে করিয়ে দেয়, দেবী শুধু সৃষ্টির প্রতীক নন, তিনিই অশুভ বিনাশের শক্তি।



