‘তিলক কেটেছ কেন?’ লন্ডনের স্কুলে ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ, ৮ বছরের পড়ুয়াকে স্কুল ছাড়তে বাধ্য করার দাবি

লন্ডনের এক প্রাথমিক স্কুলে তিলক কেটে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ৮ বছরের পড়ুয়াকে হেনস্থার অভিযোগ। ধর্মীয় বৈষম্যের জেরে স্কুল ছাড়ার দাবি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ধর্মীয় পরিচয়ের প্রশ্নে কি আজও বৈষম্যের মুখে পড়তে হয় শিশুদের? এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে সরগরম লন্ডন। মাত্র আট বছরের এক খুদে পড়ুয়া, যে প্রতিদিন তিলক কেটে স্কুলে যেত—সেই অভ্যাসকেই প্রশ্ন তুলে তাকে স্কুল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ব্রিটিশ হিন্দু সমাজ ও প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে।

অভিযোগ অনুযায়ী, লন্ডনের ভিকার্স লেন প্রাথমিক স্কুল-এ পড়ত ওই শিশু। প্রতিদিন কপালে তিলক নিয়ে স্কুলে যাওয়ায় আপত্তি তোলে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরিবারের তরফে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি। উল্টে, প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হতে হয় শিশুটিকে—‘তিলক কেটেছ কেন?’ এই প্রশ্নই ধীরে ধীরে আতঙ্কে পরিণত হয় তার কাছে।

ব্রিটিশ হিন্দু ও প্রবাসী ভারতীয়দের সংগঠন ইনসাইট ইউকে-এর দাবি, শুধু প্রশ্ন নয়, নিয়মিত নজরদারি ও মানসিক চাপে রাখা হতো ওই পড়ুয়াকে। এমনকী, একদিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে ডেকে তিলক কাটার ‘কারণ’ ব্যাখ্যা করতে বলেন বলেও অভিযোগ। এই আচরণে শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকে স্কুলে যেতে চাইত না ওই পড়ুয়া। সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ হয়ে যায়। ক্লাসে গিয়েও এক কোণে চুপচাপ বসে থাকত, খেলাধুলা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, শেষ পর্যন্ত পরিবারকে স্কুল বদলের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির বাবা-মা এবং অন্যান্য হিন্দু অভিভাবকরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা করেছিলেন। তবে অভিযোগ, সমস্যা সমাধানের বদলে বিষয়টি এড়িয়ে যায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

ইনসাইট ইউকে-র এক মুখপাত্র বলেন, “ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কোনও শিশুকে একঘরে করে দেওয়া নজিরবিহীন, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায়। এর প্রভাব শিশুর মনে দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে।”

অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইকুয়ালিটি অ্যাক্ট ২০১০ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আরও বিস্ফোরক দাবি করেছে ইনসাইট ইউকে—তাদের অভিযোগ, শুধু এই একটি নয়, ভিকার্স গ্রিন প্রাইমারি স্কুলে ধর্মীয় বৈষম্যের কারণে অন্তত চার জন পড়ুয়াকে স্কুল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত