ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ ও ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করা হল। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার পর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তালিকা আপলোড করা হয়েছে। তবে সাধারণ ভোটাররা ঠিক কীভাবে এই তালিকা দেখতে পাবেন— তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আপাতত এই তালিকা পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট ইআরও (Electoral Registration Officer) ও এআরইও (Assistant ERO)-দের কাছে। বুথভিত্তিক এই তালিকা তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের জন্য তালিকা উন্মুক্ত হবে রবিবার সকাল থেকে। গ্রামাঞ্চলে পঞ্চায়েত অফিস ও ব্লক অফিসে, আর পুরসভা এলাকায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড অফিসে টাঙানো হবে এই তালিকা। সেখানেই ভোটাররা নিজেদের নাম যাচাই করতে পারবেন।

কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় আপাতত প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে। এঁদের কারও ক্ষেত্রে তথ্যগত অসংগতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি), আবার কারও ক্ষেত্রে ভোটার আইডির সঙ্গে বুথ বা এলাকার ম্যাপিং সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। কমিশনের দাবি, এর অর্থ এই নয় যে এঁরা ভোটার নন— বরং সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে এমন নামগুলিকেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
শনিবারই কয়েকটি জেলায় নির্দিষ্ট দফতরে এই তালিকা টাঙানো হয়েছে— এমন খবর সামনে আসতেই কমিশন কড়া বার্তা দেয়। যে সব জায়গা থেকে আগেভাগে তালিকা প্রকাশ হয়েছে, সেই সব জেলার নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) তথা জেলাশাসকদের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। নির্দেশ ছিল, নির্ধারিত সময় ও নির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের SIR সংক্রান্ত মামলায় শুনানির সময় যাঁদের নাম উঠে এসেছিল, তাঁদের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ মেনে গত বুধবার নির্বাচন কমিশন জানায়, শনিবারের মধ্যেই তালিকা প্রকাশ করা হবে। শুধু লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি নয়, ‘নো-ম্যাপিং’ বা আনম্যাপড ভোটারদের তালিকাও একসঙ্গে প্রকাশের কথা ছিল।


কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে শনিবার রাতেই এই তালিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-র দফতরে এসে পৌঁছয়। সেখান থেকে তা ইআরও-দের কাছে পাঠানো হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে ধাপে ধাপে জনসমক্ষে টাঙানো হবে তালিকা, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই নিজেদের নাম খুঁজে দেখতে পারেন।
ভোটারদের জন্য কমিশনের বার্তা— তালিকায় নাম থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে সংশোধনের সুযোগ পাবেন সংশ্লিষ্ট ভোটাররা। কমিশনের লক্ষ্য, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন ভুলক্রমে বাদ না যায়।








