খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই নিশ্চিন্ত নয়, শুরু কমিশনের কড়া যাচাই, শুনানিতে ডাক পড়তে পারে লক্ষাধিক ভোটারের

খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই শুরু হল SIR-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ৩০ লক্ষের বেশি ভোটারকে বাধ্যতামূলক শুনানি, সন্দেহের তালিকায় আরও দেড় কোটির বেশি নাম।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

খসড়া ভোটার তালিকায় নাম উঠে গেলেই নিশ্চিন্ত হওয়ার সময় এখনও আসেনি। বরং নির্বাচন কমিশনের মতে, এখনই শুরু হচ্ছে আসল ঝাড়াইবাছাই পর্ব। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার এই ধাপে বহু ভোটারের তথ্য যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজন পড়লে নাম বাদও যেতে পারে।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন—এমন প্রায় সকলের নামই খসড়া তালিকায় তোলা হয়েছে। শুধু ফর্মে সই থাকলেই আপাতত নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে খসড়া তালিকায় থাকা সব ভোটার যে বৈধ, তা নিশ্চিত নয়—এ কথা স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন।

কত ভোটারের তথ্য নিয়ে সংশয়

মঙ্গলবার প্রকাশিত খসড়া তালিকায় রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১। তবে এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লক্ষ ৫ হাজার ভোটারের তথ্য নিয়ে কমিশনের সংশয় রয়েছে। এই ভোটারদের নাগরিকত্ব ও পরিচয় যাচাই করতে প্রয়োজনে শুনানিতে ডাকা হবে।

এর মধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি ভোটারকে (নির্দিষ্ট ভাবে ৩০ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৭৩ জন) নিশ্চিত ভাবে শুনানিতে হাজির হতে হবে। এঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে কোনও যোগসূত্র দেখাতে পারেননি—যাকে কমিশন বলছে ‘নো ম্যাপিং’।

সন্দেহের তালিকায় আরও দেড় কোটি

‘নো ম্যাপিং’ তালিকার বাইরে আরও ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৫ হাজারের বেশি ভোটার আছেন, যাঁদের তথ্য কমিশনের কাছে অসংগতিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। যেমন—

এই সব ক্ষেত্রে বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক যাচাই করবেন। যাঁদের ক্ষেত্রে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা মিলবে না, তাঁদের ডাকা হবে শুনানিতে।

শুনানি করবেন কারা

শুনানির দায়িত্বে থাকবেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO)-রা। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ১০ জন করে AERO নিয়োগ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট দিন ও স্থানে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে হাজির হতে হবে ভোটারকে। শুনানিতেও সন্তোষজনক প্রমাণ না দিতে পারলে চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে।

খসড়া তালিকা থেকে বাদ ৫৮ লক্ষ নাম

এই খসড়া তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জনের নাম। কমিশন জানিয়েছে, এঁদের মধ্যে রয়েছেন—

  • মৃত ভোটার

  • স্থানান্তরিত বা নিখোঁজ ভোটার

  • একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তি

  • যাঁরা এনুমারেশন ফর্মই জমা দেননি

কমিশনের মতে, এটিই প্রকৃত ঝাড়াইবাছাই নয়—আসল যাচাই শুরু হবে এই শুনানি পর্বেই।

২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে যোগসূত্র

কমিশন খসড়া তালিকার ভোটারদের তিন ভাগে ভাগ করেছে—

  • নিজস্ব ম্যাপিং (২০০২ তালিকায় নিজের নাম): ২ কোটি ৯৩ লক্ষ

  • প্রজিনি ম্যাপিং (বাবা-মা বা আত্মীয়ের নাম ছিল): ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ

  • নন-ম্যাপিং (নিজের বা আত্মীয়ের কোনও নামই নেই): প্রায় ৩০ লক্ষ

এই শেষ শ্রেণির সকলকেই শুনানিতে হাজির হতে হবে।

খসড়া তালিকা দেখবেন কোথায়

ভোটাররা খসড়া তালিকা দেখতে পারবেন—

  • স্থানীয় BLO বা রাজনৈতিক দলের BLA-দের কাছে

  • নির্বাচন কমিশনের ECINet অ্যাপ

  • কমিশনের ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে

অ্যাপে ‘Search Your Name in Voter List’ অপশনে গিয়ে EPIC নম্বর দিয়ে সহজেই যাচাই করা যাবে নাম আছে কি না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন