নজরবন্দি ব্যুরোঃ বড়ো ঘোষণা নবান্নের, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী ২ সপ্তাহ ফের লকডাউন বাংলায়। সাংবাদিক বৈঠকে আজ ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নের তরফ থেকে ঘোষোণা করা হয়েছে আগামী কাল, অর্থাৎ রবিবার থেকে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত, ১৫ দিনের জন্য জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত দফতরগুলি ছাড়া, সমস্ত সরকারি, বেসরকারি দফতর বন্ধ থাকবে রাজ্য জুড়ে।
আরও পড়ুনঃ অত্যন্ত সংকটের মুহুর্ত, আগ্নেয়গিরির ওপর বসে গোটা রাজ্য! নন্দীগ্রামে উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এর আগেই লোকাল ট্রেন বন্ধ ছিলো রাজ্য জুড়ে, আজকের ঘোষণায় বলা হয়েছে আগামী ১৫ দিন সম্পুর্ণ বন্ধ থাকবে বাস এবং মেট্রো,ফেরি পরিষেবাও। জরুরি পরিষেবা ছাড়া চলবে না অটো, ট্যাক্সি। এবং বন্ধ থাকবে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। ঘোষণা অনুযায়ী রাজ্যের এই কঠিন মুহুর্তে জরুরি পরিষেবা ছাড়া বন্ধ থাকবে বাকি সব কিছু। কড়া নিয়ম সহ আগামী ১৫ দিন রাজ্যে লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে নবান্নের তরফ থেকে। নবান্নের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী –
.স্বাস্থ্য, আদালত, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, সংবাদমাধ্যম, সাফাই, পেট্রোল পাম্প, গাড়ির পার্টস-এর মতো জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া বাকি সব কিছু বন্ধ থাকবে সম্পুর্ণ ভাবে।
.আগামী ১৫ দিন সম্পুর্ণ বন্ধ থাকবে বাস এবং মেট্রো,ফেরি পরিষেবা


.বন্ধ থাকবে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
. বন্ধ থাকবে শিল্প-কারখানা।
. রাজ্যের মধ্যে ট্রাক চলাচল বন্ধ। চিকিৎসা সামগ্রী, অক্সিজেন, খাদ্য সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নিয়ে যাওয়া যাবে না।
.জরুরি পরিষেবা ছাড়া চলবে না অটো, ট্যাক্সি।
. ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে খুলে রাখা যাবে চা বাগান।
.ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে ২টো পর্যন্ত।
.সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মিষ্টির দোকান।
.ই-কমার্স চালু থাকবে।
.মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য মুদিখানা এবং বাজার খোলা থাকবে সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। তার পরে নয়।
.হোটেল-রেস্তোরা সমত কিছুই বন্ধ থাকবে আগের সিদ্ধান অনুযায়ীই, তবে বাড়িতে খাবার সরবরাহ করা যাবে।
.ওষুধের দোকান, চশমার দোকান স্বাভাবিক সময় খোলা থাকবে
.বন্ধ পার্ক-চিড়িয়াখানা।
.সেই সঙ্গে নবান্নের তরফ থেকে জমায়েত, সৎকার অনুষ্ঠান নিয়েও নির্দেশিকা জারি হয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়েছে সৎকারে ২০ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না, এবং বিয়েবাড়িতে ৫০ জনের বেশি জমায়েত করতে পারবেন না।
.বন্ধ থাকবে সমস্ত রকমের ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক জমায়েত।
. ৩০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করতে পারবে জুট্মিলগুলি।
. রাত ৯টার পর সব কিছু বন্ধ, কেবলমাত্র এমার্জেন্সির ক্ষেত্রে অনুমতি।
দেশ জুড়ে দৈনিক সংক্রমণের গ্রাফ কিছুটা কমলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। রাজ্যেও দৈনিক সংক্রমণ ২০ হাজারের বেশি, মৃত্যুর পরিমাণও কমবেশি ১০০ এর আসেপাশে। এই পরিস্থিতিতে কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী আংশিক লকডাউন চালু করেছিলেন রাজ্য জুড়ে, বলেছিলেন কঠোর নিয়ম মেনে আচরণ করুন লকডাউনের মতো। তবুও সম্পুর্ণ লাগাম পরানো যায়নি পরিস্থিতিতে। সাধারণের মনে প্রশ্ন ছিলোই তবে কী এবার সম্পূর্ণ লকডাউনের পথে রাজ্য সরকার।
বড়ো ঘোষণা নবান্নের, আজকের বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষোণা করলেন আগামী ২ সপ্তাহ করা লকডাউনের কথা। সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত। সেই অনুযায়ীই সকলকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। নইলে মহামারি আইনে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।







