নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভয়াবহ পরিস্থিতি, রাজ্যে অব্যাহত রেকর্ড ভাঙা সংক্রমণ। আর সংক্রমণের চেন ভাঙার জন্যে চিকিৎসকদের একাংশ চাইছেন লকডাউন। তবে দেশজুড়ে টানা লকডাউন করার বদলে কেন্দ্র দায় চাপিয়েছে রাজ্যের ঘাড়ে। বলা হয়েছে স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে জোন ধরে ধরে লকডাউনের পথে যেতে। এই ক্ষেত্রে লকডাউনের জন্যে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। যার আওতায় পড়লেই অবশ্যম্ভাবী লকডাউন। আর সেই দিকেই পা বাড়িয়েছে রাজ্যের ৭ টি জেলা।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে অব্যাহত রেকর্ড ভাঙা সংক্রমণ, আজ প্রাণ গেল ৭৭ সহ-নাগরিকের।
কেন্দ্রের দেওয়া ২টি নিয়মের একটি হল, ১ সপ্তাহের মধ্যে যদি করোনা পরীক্ষায় ১০ শতাংশ বা তার বেশি মানুষ সংক্রমিত হন তাহলে কনটেনমেন্ট জোন লাগু করতে হবে সে এলাকায়। দ্বিতীয় টি হল যদি এলাকার হাসপাতালগুলিতে ৬০ শতাংশের বেশি রোগী অক্সিজেন সাপোর্টে কিংবা আইসিইউয়ে চিকিৎসাধীন থাকেন তাহলেও সেই এলাকাকেও কনটেনমেন্ট জোনের আওতায় রাখতে হবে। এই দুই শর্তর মধ্যে যে কোনও একটি পূরন হলেই সেই জোনে কঠোর ব্যাবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, আগামী ২৯শে এপ্রিলের পর ৭ দিনের জন্যে রাজ্যের ৭টি জেলার বিভিন্ন সংক্রামিত এলাকাগুলিতে লকডাউনের কথা ভাবা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ দাম কমল টিকার, ১৫০ টাকার ডোজে ৪০০ ট্যাগ লাগিয়ে ৩০০ টাকায় সেল!
এই সাতটি জেলা হল, কলকাতা, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা। হাওড়া, হুগলী, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমান। রাজ্য সরকারের বুলেটিন অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় শুধু কলকাতাতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮২১ জন, মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগণায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৭৭৮ জন মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণার ক্ষেত্রে মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা যথাক্রমে ৫ এবং ১৬ ও ৯৫৫ এবং ৯৮৬। গত ২৪ ঘন্টায় বীরভূমে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৮২ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। হুগলী এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলাতে আক্রান্ত হয়েছেন যথাক্রমে ৮৮২ এবং ৮৫০ জন। মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে ৫ এবং ২ জনের।
একমাস আগে রাজ্যে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৯৫০ জন। আর এদিন সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৫ হাজারের বেশী। এটাই ভাবাচ্ছে প্রশাসন কে। লকডাউন না চাইলেও পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতা সেই দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।



