বিগত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের নানান প্রান্তে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে চলেছে। এই জেরে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। এবার সেই গণপিটুনির একটি মামলায় দৃষ্টান্তমূলক রায় দিল আদালত। তবে, এই গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা সাম্প্রতিক নয়। বরং এক যুগ আগের। ২০১২ সালের। সেই মামলার শুনানিতেই মঙ্গলবার দোষীদের যাবজ্জীবন কারাবাসের নির্দেশ দিল বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালত।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি বাঁকুড়ার জয়পুরের বৈতল এলাকার বাসিন্দা গোলাম কুদ্দুস শেখের গণপিটুনির জেরে মৃত্যু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি নাকি ইন্দিরা আবাসনের টাকা হাতিয়ে নেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জয়পুরের উত্তরবাড় অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি বাবর আলি কোটালের নেতৃত্বে বৈতল ও অন্যান্য জায়গার বহু তৃণমূল গোলাম কুদ্দুস শেখকে অমানুষিকভাবে প্রহার করে এবং তাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এরপর গোলাম কুদ্দুসের দাদা ইউসুফ আলি শেখ বাবর আলি কোটাল, দুই পঞ্চায়েত সদস্য লাল মোহাম্মদ ভূঁইঞা ও রাজন মণ্ডল-সহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে জয়পুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই তৃণমূল নেতা-কর্মী। পুলিশ প্রাথমিকভাবে সবাইকে গ্রেফতার করলেও ১৩ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করে। অবশেষে দোষী সাব্যস্ত হলেন ৭ জন। তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি বাবর আলি কোটাল এবং দুই পঞ্চায়েত সদস্য লাল মোহাম্মদ ভূঁইঞা ও রাজন মণ্ডল, শুকুর ভূঁইঞা, ইয়ামিন ভূঁইঞা, নবীয়াল মণ্ডল এবং হোসেন মণ্ডলের যাবজ্জীবন সাজা হল।
গণপিটুনির দায়ে যাবজ্জীবন কারাবাস, দৃষ্টান্তমূলক রায় দিল আদালত

দীর্ঘ বারো বছর ধরে এই মামলা চলছিল। এই ৭ জনকেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ১৪৯ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ৩২৪ ধারায় ৩ বছর কারাদণ্ড ও ৩২৫ এবং ১৪৯ ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে প্রত্যেকেরই ১০,০০০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এছাড়াও ১৪৭ ধারায় ২ বছর কারাদণ্ড ও ১৪৮ ধারায় ৩ বছর কারাদণ্ডর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক অনিরুদ্ধ মাইতি।



