লখিন্দরের জন্য লড়েছিলেন বেহুলা… প্রেম দিবসে সৌমিত্র কে সুজাতা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ লখিন্দরের জন্য লড়েছিলেন বেহুলা… আমিও লড়ছি… প্রেম দিবসে এভাবেই সৌমিত্র খাঁ কে চিঠি দিলেন সুজাতা মণ্ডল খাঁ। আজ বিশ্ব প্রেম দিবস। আর এই প্রেম দিবস অর্থাৎ valentine day এর দিনে প্রিয়তম স্বামী সৌমিত্র খাঁ কে চিঠি লিখলেন সুজাতা। চিঠির প্রতিটি ছত্রে ঝরে পড়েছে আবেগ। সুজাতার সেই চিঠি সম্পুর্ণ অসম্পাদিত রূপে প্রকাশ করা হল।

আরও পড়ুনঃ টাকা নিয়ে পদ বিলোতেন মুকুল, তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিস্ফোরক বিজেপি নেতা।

“সৌমিত্র, কেমন আছ? ভাল আছো নিশ্চয়ই। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, তোমার কথা খুব মনে পড়ছে। রোজই তোমাকে ভুলে যাব ভাবি, চেষ্টাও করি, কিন্তু পারিনি, পারি না। বিশ্বাস করো, আজও ভেবেছিলাম ভুলে যাব। পারিনি। পারলাম না। তোমার সঙ্গে আমার কাটানো বসন্তগুলো বারবার উঁকি দিচ্ছে। মনে পড়ে, চকোলেট ডে-তে চকোলেট, রোজ ডে-তে গোলাপ। আর ভ্যালেন্টাইন ডে-তে, আমাদের একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গন। এই তো আগের বছরও, এই দিনেই আমরা দুজনায় দুজনের বাহুডোরে ছিলাম। মনে আছে তোমার? আমি কিন্তু কিছু ভুলিনি। সত্যি বলতে ভুলতে চাইওনি। জানোতো, তুমি আসলে আমার কাছে জয় গোস্বামীর কবিতা, ‘পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোবালি কাটাব জীবন’।

একুশের দ্বারে বসন্ত এসেছে সৌমিত্র (Soumitra Khan)। আজ তুমি নেই। ‘আজ দুজনার দুটি পথ ওগো/দুটি দিকে গেছে বেঁকে/তোমার ও পথ আলোয় ভরানো জানি/আমার এ পথ আঁধারেতে আছে ঢেকে’। আমাদের মধ্যে এখন আলোকবর্ষ দূরত্ব। জানো, আজকাল প্রায়ই স্মৃতির সরণী বেয়ে অনেকটা পথ একলা হাঁটি। তোমার আমার বাঁধানো সংসার। বেঁধে বেঁধে থাকা মুহূর্তগুলো হাত ধরাধরি করে আছে। আমি হাসি। আমার চোখ চিকচিক করে ওঠে।

সুজাতার হাতের পায়েস খেয়েই গৌতম বুদ্ধ সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। সেই সুজাতা হয়ত আমি নই। তবে আমার নামেরই কোনও পবিত্র নারী ছিলেন তিনি। আমি সেই সুজাতা (Sujata Mondal Khan), যে তোমার সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরণ লড়াইয়ে নেমেছিল। জীবনের অনেক চড়াই উতরাইয়ে আমিই ছিলাম তোমার জীবনের সঙ্গী। তোমার সহধর্মিনী। সৌমিত্রর সহযোদ্ধা ছিল সুজাতা। তোমার মনে পড়ে, আমাদের একসঙ্গে কাটিয়ে আসা নটা বসন্তের কথা?

সৌমিত্র আমি তোমাকে কখনও পদ্ম দেব না। দেব না ঘাসফুলও। তোমাকে দেব গোলাপ আর রজনীগন্ধা। সম্পর্ক সৌরভান্বিত হয় রজনীগন্ধায়। তোমাকে তাই দেব। কণ্টকময় পথ পেরিয়েই তো সম্পর্ক হয়। সেই সম্পর্কের সুভাষে থাকবে তোমাকে দেওয়া আমার গোলাপ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন নারী। আমিও একজন নারী। তাঁর আদর্শে আদর্শায়িত হয়েই আমি সুরক্ষিত থেকে রাজনীতি করব। আর যাদের বিরুদ্ধে করব তাদের সংস্কৃতি কখনই পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না। ভারতীয় জনতা পার্টির কালচার বাংলার মানুষের কালচার নয়। আমার লড়াই ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে, তোমার বিরুদ্ধে নয় সৌমিত্র।

দলত্যাগ করেছি আদর্শের জন্য। আর তার খেসারত, আজ আমার ঘর ভাঙছে। ভারতীয় জনতা পার্টি ঘর ভাঙানো পার্টি। দলীয় আনুগত্য প্রমাণে কিনা দলের সংসদকেই সম্পর্কচ্ছেদ করতে হল! স্ত্রীবিয়োগ তোমায় ভাবায় না সৌমিত্র? ভেবে দেখছ কখনও, যে দল নিজেরাই তিন তালাক আইন (নিষিদ্ধ) আনল, তারাই আবার দলের সংসদকে তালাক দেওয়া করায়!

একজন স্ত্রীর তো কর্তব্য থাকে, স্বামীর বিপদে তাঁর পাশে থেকে সঙ্গী হয়ে লড়াই করা। লখিন্দরের জন্য লড়েছিলেন বেহুলা। আমিও একজন পতিব্রতা স্ত্রী। আমিও সেদিন লড়াই করেছিলাম। আমি ছাড়া আর কে-ই বা করত? বিষ্ণুপর আমাকে ঢেলে আশীর্বাদ করেছিল। আজও বলছি, আমার লড়াই তোমার সঙ্গে নয়। কোনও সাংসারিক লড়াই আমি করছি না। আমি লড়ছি আদর্শের জন্য। আমার লড়াই রাজনৈতিক লড়াই।

সৌমিত্র তোমার সিদ্ধান্ত ভুল। চক্রান্তের শিকার হয়েছ। আশা রাখি, তোমার সম্বিত ফিরবে। তুমি ভুল বুঝবে। জেনে রেখো, একজন মহিলার অভিশাপেই কিন্তু পুড়ে ছাই হয়েছিল রাবণের লঙ্কা। আমি চাই না, আমার ওপর অন্যায়ে তুমি সেই অভিশাপের শিকার হও… ভাল থেকে। ভালবাসায় থাকো, ভালবাসায় ভরিয়ে দাও। – ইতি তোমার সুজাতা

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর