ক্যানিং পূর্বে আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী করা নিয়ে বাম ও আইএসএফের সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়ল। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের আপত্তির জবাবে আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রার্থী নির্বাচন তাদের দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, কোনও দলের ‘লেজুড়বৃত্তি’ তারা করবে না। এই মন্তব্যের পর জোট রাজনীতিতে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা আসনে তৃণমূল থেকে আইএসএফে যোগ দেওয়া আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আইএসএফ। এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানায় সিপিএম। মহম্মদ সেলিম মন্তব্য করেছিলেন, যাঁর বিরুদ্ধে অতীতে নানা অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে সামনে রেখে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়। সেই মন্তব্যের পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন নওশাদ সিদ্দিকি।


বৃহস্পতিবার রাতে নওশাদ বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলকে খুশি করার জন্য আইএসএফ রাজনীতি করে না। প্রার্থী নির্বাচন সম্পূর্ণ দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেই সিদ্ধান্ত অন্য কোনও দল ঠিক করে দেবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আইএসএফ কোনও দলের নির্দেশে চলবে না বা কারও ‘লেজুড়বৃত্তি’ করবে না।
অন্যদিকে, সিপিএমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরাবুল ইসলাম প্রসঙ্গে তাদের আপত্তির কথা আইএসএফ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। এমনকি আইএসএফের নিচুতলার কর্মীদের প্রতিও আবেদন জানানো হয়েছে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড়ে আইএসএফ কর্মী খুনের ঘটনায় আরাবুলের নাম উঠেছিল— সেই প্রসঙ্গও সামনে এনেছে সিপিএম নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়েকটি আসন নিয়ে আগেই বাম ও আইএসএফের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করার পর সেই মতবিরোধ আরও প্রকাশ্যে চলে এল। ফলে আসন্ন নির্বাচনের আগে বাম-আইএসএফ আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে


সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



