তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে। নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ, বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের সম্ভাব্য অবস্থান পরিবর্তন এবং দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের মাঝেই মঙ্গলবার বিধানসভায় হাজির হন বহিষ্কৃত এই বিধায়ক। আর সেখান থেকেই তাঁর একটি মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে—“আমি আজকে নিয়ে ভাবি, কাল কী হবে তা কে জানে!”
গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, তৃণমূলের একাংশ অসন্তুষ্ট বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী গড়ে উঠতে পারে। সেই জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনও আলোচনা চলছিল যে, নির্দিষ্ট সংখ্যক বিধায়কের সমর্থনপত্র নিয়ে তিনি বিধানসভার স্পিকারের কাছে যেতে পারেন।
মঙ্গলবার বিধানসভায় তাঁর উপস্থিতির পর সেই জল্পনা আরও বাড়ে। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত দাবি করেন, তিনি কোনও সমর্থনপত্র বা রাজনৈতিক দাবি নিয়ে সেখানে যাননি। ব্যক্তিগত কাজেই বিধানসভায় এসেছিলেন বলে জানান তিনি।
শুধু তাই নয়, গত কয়েকদিনে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় একাধিক বিধায়কের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের যে খবর ছড়িয়েছে, তাও খারিজ করে দেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, নানা ধরনের গুজব রটানো হচ্ছে এবং প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই নানা দাবি সামনে আনা হচ্ছে।
তবে সব জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি। বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর মন্তব্য, আগামী দিনে কী হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। এই মন্তব্যকেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
এদিকে নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠী তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে কারণ বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দলের নির্দিষ্ট সংখ্যক বিধায়ক যদি নিজেদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে দাবি করেন, তাহলে তা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও এই ধরনের পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের উপর নির্ভর করে।
রাজনৈতিক সূত্রে নানা সংখ্যার হিসাব সামনে এলেও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক তালিকা বা নথি প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে কতজন বিধায়ক সত্যিই ঋতব্রতর পাশে রয়েছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
অন্যদিকে, সই বিতর্ক এবং দলীয় বহিষ্কারের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই আবহে ঋতব্রতর প্রতিটি মন্তব্যই নতুন রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আগামী কয়েকদিনে কোনও নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপ সামনে আসে কি না। কারণ চিঠি বা সমর্থনের প্রসঙ্গ সরাসরি অস্বীকার করলেও ঋতব্রতর “কাল কী হবে কে জানে” মন্তব্যই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।



