অতি-বাম ও মাওবাদীরা হাইজ্যাক করেছে কৃষক আন্দোলনকে, মন্তব্য পীযূষ গয়ালের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ অতি-বাম ও মাওবাদীরা হাইজ্যাক করেছে কৃষক আন্দোলনকে, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একাধিকবার বলেছে নয়া কৃষি আইন কৃষদের কথা মাথায় রেখেই আনা হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের সুবিধাই হবে। উপকৃত হবেন দেশের চাষি ভাইরা। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলির ধারণা সম্পুর্ণ অন্য। তাদের মতে, নয়া তিনটি কৃষি আইন ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলের স্বার্থের কথা ভেবে আনা হয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর গলায় আবারও শোনা গেল কৃষি আইনের গুণগান।

আরও পড়ুনঃ পার্থর বাড়িতে রাজীব, আছেন প্রশান্ত কিশোর! শোনা হচ্ছে অভাব অভিযোগ।

Shamim Ahamed Ads

ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলের মঞ্চ থেকেই ফের কৃষি আইনের পক্ষে সাওলা মোদির। অন্যদিকে, তারই দলের এক মন্ত্রীর অভিযোগ কৃষি আন্দোলনের পিছনে রয়েছে মাওবাদীদের হাত। বণিকসভা ফিকি-র বার্ষিক সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন কৃষি আইনের ফলে সব থেকে বেশী লাভবান হবে আমার দেশের চাষিরা। উপকৃত হবেন ছোট-ছোট জমির উপর নির্ভর করে জীবন কাটানো মানুষ গুলো।

মোদির এই কথা উপেক্ষা করে দিল্লি-হরিয়ানা সীমানা অবরোধে উপস্থিত কৃষক সংগঠনগুলির নেতাদের অভিযোগ, কৃষি আইন সুংস্করণের ফলে দেশের চাষাবাদ কর্পোরেটদের হাতে চলে যাবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর মতে, দেশের অর্থব্যবস্থায় যাতে একে ওপেরকে সাহায্য করতে পারে তার জন্য দরকার আরও বেশী সেতু বন্ধনের। কৃষকসভার নেতা হান্নান মোল্লার বলেন, সরকার যখন কৃষিদের স্বার্থে এই আইন এসেছে, তাহলে মন্ত্রীরা আন্দোলনরত চাষিদের সামনে গিয়ে উপকারতা বোঝাচ্ছেন না কেন?

এই বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার প্রকাশ সিংহ বলেন, পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই নিজের হাতে চাষিদের আন্দোলন সামলানো উচিৎ প্রধানমন্ত্রীর। পঞ্জাবের কংগ্রেস নেতা প্রতাপ সিংহ বাজওয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, কৃষি আইন প্রত্যাহার করুন। যাতে কেন্দ্র-কৃষকের মধ্যে উত্তেজনা ও বিভাজন কমতে পারে। কিন্তু সমস্যা সমাধানের কথা না ভেবেই কৃষক আন্দোলনে মাওবাদীদের হাত থাকার কথা বলে বসেন মোদি সরকারের মন্ত্রী। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, অতি-বাম ও মাওবাদীদের কাছে হাইজ্যাক হয়ে গেছে কৃষক আন্দোলন। তারা কৃষকদের উপকারিতার বদলে অন্য বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে দাবি পীযূষ গয়ালের।

অতি-বাম ও মাওবাদীরা হাইজ্যাক করেছে কৃষক আন্দোলনকে, কৃষকদের প্রতিবাদের মঞ্চ থেকে উমর খালিদ, শরজিল ইমাম, গৌতম নভলাখা ও ভীমা-কোরেগাঁও কাণ্ডে ধৃতদের মুক্তির দাবি উঠছে বলে অভিযোগ কেন্দ্রের। কৃষক সংগঠনগুলির মতে, ভারতীয় কিসান ইউনিয়ন প্রতিবাদে সামিল না হয়ে এই ধরনের বক্তব্য করছেন। ভারতীয় কিসান ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকায়েত বলেন, সরকারের কাছে যদি সঠিক তথ্য থাকে যে, কৃষকদের আন্দোলনে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকেরা প্রবেশ করেছে তাহলে তদন্ত করানো হচ্ছে না কেন। কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালার মতে, সরকারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে, প্রতিবাদ জানালেই তাঁকে মাওবাদী, দেশদ্রোহী বলা হয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত