নজরবন্দি ব্যুরোঃ চলে গেলেন কিংবদন্তি গায়িকা লতা মঙ্গেশকর। বসন্ত পঞ্চমী তিথিতে মানব সরস্বতী বিদায় নিলেন অজানার দেশে। তার এই প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা ভারত। পরিবার থেকে শিল্পী কলাকুশলী সঙ্গীত জগতের মানুষ ছাড়াও গোটা দেশ আজ এই মহান শিল্পীর প্রয়াণে শোকাহত। একই সাথে শোকাহত বাংলার সংগীতজগতের নক্ষত্ররাও।
আরও পড়ুনঃ ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ ছিল অসামান্য, দুঃসময়ে বিসিসিআইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন লতা


লতার মৃত্যুসংবাদ তাঁদের কারো কাছে মাতৃহারা সমান কারো কাছে তিনি গুরুমার সমান। কেউ কথা বলতে গিয়ে ধরে আসছিল গলা। এই মহান শিল্পীর প্রাণে বাংলার প্রতিষ্ঠিত গায়িকা লোপামুদ্রা জানিয়েছেন, “মানুষটির শরীর চলে গিয়েছে, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি থেকে যাবে সারা জীবন। ৯২ বছর বয়স হয়েছিল মানছি। কিন্তু ওঁর চলে যাওয়ার শূন্যতা কোনওদিন পূরণ হবে না।

বাংলার আর এক গায়ক রূপঙ্কর বলেছেন, মা চলে যাওআর পর সন্তানের কাছে যে শূন্যতা তৈরি হয়, সেই শূন্যতাই তৈরি হল। আমি দ্বিতীয়বার মাতৃহারা হলাম। ওঁর গান-সুর, কণ্ঠ, আমার এই মুহূর্তে আরও বেশি করে মাথায় ঘুরছে। আমরা একটা সমুদ্রের জল ছুয়েছি মাত্র! আর উনি তো পার হয়ে গিয়েছিলেন।



লতার মৃত্যুতে শোকাহত মনোময় ভট্টাচার্য বললেন, বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আজকেই মা সরস্বতীর বিসর্জনের দিন। সেইদিনই আমাদের সরস্বতী ছেড়ে গেলেন আমাদের। খুব কষ্ট হচ্ছে। তবে যতদিন গোটা বিশ্ব আছে, লতা মঙ্গেশকরের সৃষ্টিও ততদিন থেকে যাবে।

পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী তাঁর শোকপ্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, লতাজির সঙ্গে আমার অনেক দিনের পরিচয়। ১৯৮১ সালে উনি যখন দাদাসাহেব পুরস্কার পান, আমি তখন সেরা পার্শ্ব পুরুষকণ্ঠের জন্য পুরস্কৃত হই। আমাদের দু’জনের মিল হচ্ছে, আমরা খুব ধীরে সুস্থে কথা বলি। সুরসম্রাজ্ঞী হয়েও উনি নিজে ভাবতেন, আমি তো সাধারণ গায়িকা মাত্র। তবে ওঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।

মানব সরস্বতীর বিদায়ে শোকস্তব্ধ বাংলার সঙ্গীত শিল্পীরা
শোকাহত ইন্দ্রাণী সেনের মন্তব্য, পঞ্চমী তিথি এখনও আছে, আর সেই তিথিতেই আমাদের সরস্বতীর বরপুত্রী চলে গেলেন। এত বছর ধরে আমাদের গান শুনিয়েছেন, শিখিয়েছেন, সেই মানুষটির চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না। গায়িকা জোজোর কথায়, ছোটবেলা থেকে জেনে এসেছি লতাজি-ই মাবব-সরস্বতী। আমার কেরিয়ারে আমি কখনও ওঁর গান গাওয়ার সাহস করিনি। তবে অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি ওঁর গান শুনে। সেটা কাজেও লাগিয়েছি।







