পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে রাজ্যবাসীর মধ্যে ফের জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী মাস থেকে এই প্রকল্পে প্রাপকদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ একলাফে ২০০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে। বর্তমান আর্থিক সাহায্য বাড়িয়ে নতুন ঘোষণার সম্ভাবনা রাজ্য বাজেট ঘিরে আলোচনা আরও উসকে দিয়েছে।
বর্তমান লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প: কীভাবে চলছে?
রাজ্য সরকার ২০২১ সালে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে এই প্রকল্প চালু করে। বর্তমানে, সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা পান। তপশিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির মহিলারা মাসে ১২০০ টাকা পান। এই প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় ১.৮৫ কোটি মহিলা উপকৃত হয়েছেন। তবে, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে প্রাপকদের অনেকে সহায়তার অঙ্ক বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

একধাক্কায় দু’হাজার, ফেব্রুয়ারিতে বাড়ছে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা? বাজেট নিয়ে বিরাট জল্পনা
আসন্ন বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। সরকার ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর অনুযায়ী, মহিলাদের ক্ষমতায়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভান্ডারের আওতায় প্রাপকদের মাসিক সহায়তা বাড়িয়ে সাধারণ শ্রেণির জন্য ১৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির জন্য ২০০০ টাকা করার পরিকল্পনা করতে পারেন।
এই প্রকল্পের পরিমাণ বাড়লে রাজ্যের মোট বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তবে, তৃণমূল সরকারের দাবি, মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বাড়ানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। ৬০ বছর বয়স হলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রাপকরা বার্ধক্য ভাতার (Old Age Pension Scheme) সুবিধা পেতে শুরু করেন।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই এই জল্পনার বিরোধিতা শুরু করেছে। তাদের মতে, রাজ্যের অর্থনৈতিক চাপ উপেক্ষা করেই ভোটের কথা মাথায় রেখে এমন ঘোষণা করা হতে পারে। বিজেপি এবং কংগ্রেসের নেতারা রাজ্যের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা বাড়লে কী প্রভাব পড়বে?
মহিলাদের আর্থিক উন্নতি: বাড়তি সহায়তা তাঁদের দৈনন্দিন খরচে সাহায্য করবে।
গ্রামীণ অর্থনীতি: গ্রামের মহিলারা এই টাকা স্থানীয় বাজারে ব্যয় করায় গ্রামীণ অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব: মহিলা ভোটারদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা আরও বাড়তে পারে।
রাজ্যের আর্থিক চাপ: তবে, এই প্রকল্পের ব্যয়বৃদ্ধি রাজ্যের কোষাগারের উপর চাপ তৈরি করতে পারে।



