কিলিয়ান এমবাপেকে ঘিরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে তৈরি হওয়া বড় দুশ্চিন্তা অনেকটাই কাটল। মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ফরাসি অধিনায়ককে। সেই দৃশ্য দেখে উদ্বেগে পড়েছিলেন সমর্থকরা। তবে ম্যাচ শেষে এমবাপে নিজেই জানিয়ে দিলেন, তাঁর চোট গুরুতর নয় এবং সেমিফাইনালে খেলার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচের ৭৭ মিনিটে আচমকাই পায়ে অস্বস্তি অনুভব করেন এমবাপে। মাঠেই বসে পড়েন তিনি এবং পরে বেঞ্চের দিকে ইশারা করেন। পরিস্থিতি বুঝে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে তুলে নেন কোচ দিদিয়ের দেশঁ। সেই মুহূর্ত থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কি আদৌ মাঠে নামতে পারবেন ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় তারকা?
ম্যাচ চলাকালীন একাধিকবার মরক্কোর ডিফেন্ডারদের কঠোর ট্যাকলের মুখে পড়তে হয় এমবাপেকে। কয়েকবার তাঁকে যন্ত্রণায় কাতর হতেও দেখা যায়। ফলে চোটের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।
তবে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সামনে স্বস্তির বার্তাই দেন ফরাসি অধিনায়ক। এমবাপে জানান, এটি শুধুই গোড়ালিতে সামান্য চোট এবং এখন তিনি অনেকটাই ভালো আছেন। কেন তাঁকে বদলি করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ম্যাচের শেষ অংশে জাঁ-ফিলিপ মাতেতা শারীরিকভাবে বেশি প্রস্তুত ছিলেন বলেই কোচ সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চোট পাওয়ার আগে অবশ্য ম্যাচের অন্যতম নায়ক ছিলেন এমবাপেই। ৬০ মিনিটে দুরন্ত গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর অষ্টম গোল। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ২০-তে। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করার পর এই গোল তাঁর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনেরই প্রমাণ।
মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল ফুটবলারদের তালিকায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তুলছেন এমবাপে। ইতিমধ্যেই একটি বিশ্বকাপ জয়, একাধিক রেকর্ড এবং ধারাবাহিক গোল করার নজির তাঁকে ভবিষ্যতের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।
ফ্রান্স দলে ব্র্যাডলি বারকোলা, ওয়ারেন জাইর-এমরি, অহেলিয়াঁ চুয়ামেনির মতো একাধিক প্রতিভাবান ফুটবলার থাকলেও এমবাপের বিকল্প কার্যত নেই। তাঁর গতি, গোল করার ক্ষমতা এবং বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার দক্ষতাই ফ্রান্সকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবারের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগেই এমবাপে পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। স্পেন অথবা বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মহারণের আগে তাঁর সুস্থতার খবর ফরাসি শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও প্রতিপক্ষের জন্য তা নিঃসন্দেহে নতুন চিন্তার কারণ।






