পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কোচের পদ ছাড়েন রবার্তো মার্টিনেজ। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে এখন প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে অভিজ্ঞ কোচ জর্জ জেসাস-এর নাম। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে পর্তুগিজ ফুটবল মহলের খবর, খুব শিগগিরই ৭১ বছর বয়সি এই কোচের নিয়োগে সিলমোহর পড়তে চলেছে।
সূত্রের দাবি, জর্জ জেসাসের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পথে এগোচ্ছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন। আল নাসেরে কোচিং করানোর সময় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে তাঁর সফল সমীকরণই এই নিয়োগের অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জেসাসের অধীনে আল নাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জিতেছিল। সেই সাফল্যের পর থেকেই রোনাল্ডোর সঙ্গে তাঁর পেশাদার সম্পর্ক নিয়ে প্রশংসা হয়েছে। ফলে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে জেসাসের আগমনকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে—তাহলে কি রোনাল্ডো আরও কিছুদিন পর্তুগালের জার্সিতে খেলতে চলেছেন?
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো জানিয়ে দিয়েছেন, পরবর্তী বিশ্বকাপে তাঁকে আর দেখা যাবে না। তবে এখনও জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা করেননি তিনি। সেই কারণে নেশনস লিগ-সহ আগামী আন্তর্জাতিক সূচিতে তাঁকে পর্তুগালের জার্সিতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
জর্জ জেসাসের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিশ্বকাপের ব্যর্থতার ধাক্কা সামলে দলকে নতুন করে গড়ে তোলা। আগামী সেপ্টেম্বরেই শুরু হচ্ছে উয়েফা নেশনস লিগ। তার আগে দলকে সংগঠিত করা এবং আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই হবে তাঁর প্রথম লক্ষ্য।
জেসাসের জন্য একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বিশ্বকাপে রবার্তো মার্টিনেজের নির্বাচিত ২৬ সদস্যের দলে থাকা ১১ জন ফুটবলার অতীতে তাঁর অধীনে ক্লাব ফুটবলে খেলেছেন। ফলে দলের বড় অংশই তাঁর কোচিং দর্শন এবং কৌশলের সঙ্গে পরিচিত।
নেশনস লিগে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ হবে ওয়েলস, নরওয়ে এবং ডেনমার্ক। এই প্রতিযোগিতাতেই জাতীয় দলের কোচ হিসেবে জেসাসের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুধু আক্রমণভাগ নয়, রক্ষণ ও গোলকিপিং বিভাগেও নজর দিতে হবে তাঁকে। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জোস সা এবং রুই সিলভার বয়স বাড়ায় ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিকল্প তৈরি করাও নতুন কোচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর নতুন কোচের হাত ধরে নতুন পথচলা শুরু করতে চলেছে পর্তুগাল। এখন দেখার, জর্জ জেসাস কি রোনাল্ডোদের নিয়ে আবারও ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পর্তুগালকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।






