কুরুক্ষেত্রে স্বামী খুন, পেট চিরে নাড়িভুঁড়ি ব্যাগে ভরে পালাচ্ছিলেন স্ত্রী! তারপর কী হল?

কুরুক্ষেত্রে ভাড়াবাড়ির ছাদে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার স্বামীর দেহ। স্ত্রীকে ঘিরে নৃশংস খুনের অভিযোগ, উদ্ধার তিনটি ছুরি; দাম্পত্য অশান্তির কথাও জানতে পেরেছে পুলিশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামী রাজেশকে খুনের পর তাঁর পেট কেটে অন্ত্র-সহ দেহের কিছু অংশ বের করে ব্যাগে ভরছিলেন বিমলা। বাড়িওয়ালা ছাদে পৌঁছে যাওয়ায় পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। ছাদ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার পর আহত অবস্থায় তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

নিহত রাজেশ উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে স্ত্রী বিমলাকে নিয়ে কুরুক্ষেত্রে থাকতেন তিনি। পেহোয়া রোডের রাজ প্যালেস এলাকার কাছে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে সেখানে বসবাস করছিলেন দম্পতি। তবে কী কারণে এই খুন, এখনও তার কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেল ৫টা নাগাদ বাড়িওয়ালা রিঙ্কু চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান। দম্পতির মধ্যে ছাদে ঝামেলা চলছে বুঝতে পেরে তিনি সেখানে যান। ছাদে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাজেশকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

বাড়িওয়ালার দাবি, রাজেশের পেটে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং ক্ষতস্থান থেকে অন্ত্র বেরিয়ে এসেছিল। সেই সময় বিমলাকে ওই দেহাংশ একটি ব্যাগের মধ্যে ঢোকানোর চেষ্টা করতে দেখা যায় বলেও দাবি তাঁর। তাঁকে দেখে বিমলা ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। ছাদ থেকে পড়ে আহত হন অভিযুক্ত মহিলা। বাড়িওয়ালা তাঁকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিমলাকে হেফাজতে নেয় এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে। একই সঙ্গে রাজেশের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। সুরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজেশের পেটে প্রায় ১৪ ইঞ্চি দীর্ঘ গভীর ক্ষত রয়েছে। সেই আঘাতের জেরেই তাঁর অন্ত্র বাইরে বেরিয়ে এসেছিল বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রাজেশের যকৃতের একটি বড় অংশ এবং ডান দিকের কিডনিও ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর কুরুক্ষেত্রের ওই ভাড়াবাড়ি ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ এলাকা সিল করে দিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আকারের তিনটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ছাদ-সহ বাড়ির বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, রাজেশ ও বিমলার মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হত। স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, বিমলা ‘ঝাড়ফুঁক’-এর কাজও করতেন। তবে এই দাবি তদন্তে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ঠিক কী কারণে রাজেশকে এমন নৃশংসভাবে খুন করা হল? দাম্পত্য অশান্তি, অন্য কোনও বিরোধ, নাকি এর পিছনে আরও কোনও কারণ রয়েছে—এখন সেই উত্তরই খুঁজছে কুরুক্ষেত্র পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিমলার জিজ্ঞাসাবাদ এবং ফরেনসিক রিপোর্টের পরই ঘটনার আসল কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন