একের পর এক বিস্ফোরক ট্যুইট! কুণাল ঘোষ নিজেই নতুন করে বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন না তো তৃণমূলের? প্রশ্নটা উঠছে। বৃহস্পতিবারই তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক এবং দলীয় মুখপাত্রের পদ ছেড়েছেন তিনি। বলছেন, তিনি সিস্টেমে মিসফিট তবে আছেন তৃণমূলেই! আর তাঁর মূল ক্ষোভের কারণটা নিয়ে যে জল্পনা চলছিল, তা আর জল্পনা নেই। তৃণমূলেরই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই তাঁর যত রাগ! শনিবারের আরেকটি ট্যুইটের পর যা কার্যত স্পষ্ট।
আরও পড়ুন: সাংসদ পদে ইস্তফা! আর নয় রাজনীতি, এবার ফের ক্রিকেট, জানালেন গম্ভীর
শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সরাসরি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির দাবি জানালেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষ লিখেছেন, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ভুবনেশ্বর অ্যাপোলো হাসপাতালের বিল মেটানোর নথি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি যখন বন্দি ছিলেন তখন তাঁর হাসপাতালের বিল কে মিটিয়ে দিয়েছিল? এই বিষয়টা তদন্ত করে দেখা দরকার। কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে সেই টাকার যোগ থাকতে পারে। যদি থাকে তাহলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা উচিত। না হলে আমি আদালতের যাব।”
.@dir_ed @CBIHeadquarters
The bank accounts of Sudip Banerjee, MP and payments on behalf of him to Apollo, Bhubaneswar must be investigated.
When he was in custody, whether a large amount paid to him or paid to hospital on behalf of him or not, that should be probed. If it is…সদ্য প্রকাশিত
ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের পাল্টা নতুন সমিতি, পুজোর আগে বড় উদ্যোগ বঙ্গ বিজেপির
মীন রাশির আজকের রাশিফল – ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) March 2, 2024
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের মধ্যে যে আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক তা রাজনীতিতে ওয়াকিবহাল অনেকেই জানেন। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক এবং দলীয় মুখপাত্রের পদ ছাড়ার পোস্টে সে কথা উল্লেখ না থাকলেও চর্চা জারিই ছিল। অনুমানও ছিল। আর তা প্রকাশ্যে এল ২৪ ঘন্টার মধ্যেই।

সুদীপের নামে অভিযোগ তুললেও কুণাল আগেই জানিয়েছিলেন তিনি তৃণমূলেই আছেন, থাকবেন। লিখেছিলেন, “তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র পদে থাকতে চাইছি না। সিস্টেমে আমি মিসফিট। আমার পক্ষে কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমি দলের সৈনিকই থাকব। দয়া করে দলবদলের রটনা বরদাস্ত করবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার সেনাপতি, তৃণমূল আমার।” তৃণমূল সূত্রে খবর, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক এবং দলীয় মুখপাত্রের পদে ইস্তফা দেবার পাশাপাশি কুণাল ঘোষ দলের মুখপাত্রদের হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং প্রাপ্ত নিরাপত্তাও ছেড়ে দিয়েছেন।

প্রথম যে পোস্টটি কুণাল করেছিলেন সেখানে লেখেন, “নেতা অযোগ্য গ্রুপবাজ স্বার্থপর। সারাবছর ছ্যাঁচড়ামি করবে আর ভোটের মুখে দিদি, অভিষেক। দলের প্রতি কর্মীদের আবেগের উপর ভর করে জিতে যাবে, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করবে, সেটা বারবার হতে পারে না।” এবার আবার ১০ মার্চ তৃণমূলের ব্রিগেডে উপস্থিত থাকার কথাও তিনি জানালেন।
আমি @AITCofficial এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র পদে থাকতে চাইছি না। সিস্টেমে আমি মিসফিট। আমার পক্ষে কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমি দলের সৈনিক হিসেবেই থাকব। দয়া করে দলবদলের রটনা বরদাস্ত করবেন না। @MamataOfficial আমার নেত্রী, @abhishekaitc আমার সেনাপতি, @AITCofficial আমার…
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) March 1, 2024
সুদীপের গ্রেফতারির দাবিতে সরব কুণাল, লোকসভার মুখে তৃণমূলে উচ্চপর্যায়ের গোষ্ঠীকোন্দল!
কুণাল লিখেছেন, “পায়ে পায়ে উড়িয়ে ধুলো, ১০ মার্চ ব্রিগেড চলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতিত্বে আসন্ন ব্রিগেড সমাবেশের প্রচারে রাজাবাজার মোড় থেকে শ্রদ্ধানন্দ পার্ক পর্যন্ত তৃণমূল কর্মীদের মিছিল। থাকব।”

কিন্তু, লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ডামাডোল কিন্তু তৃণমূল শিবিরের জন্য অস্বস্তিকর। নীচু তলার কর্মীদের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দলের কথা আগেও প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু এ একেবারে উচ্চপর্যায়ের। এই ঝড় সামাল দেওয়ার মতো একমাত্র ব্যক্তি হলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হতে পারেন অভিষেকও। কিন্তু, তাতে অস্বস্তি কমে না। অন্যদিকে, সূত্রের খবর, গোটা বিষয়টা দলনেত্রীকে জানিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণালের বক্তব্যও তাই। এখন দুই পরিচিত মুখের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান কিভাবে হয় আদৌ হয় কিনা সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
নেতা অযোগ্য গ্রুপবাজ স্বার্থপর। সারাবছর ছ্যাঁচড়ামি করবে আর ভোটের মুখে দিদি, অভিষেক, @AITCofficial দলের প্রতি কর্মীদের আবেগের উপর ভর করে জিতে যাবে, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করবে, সেটা বারবার হতে পারে না।
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) February 29, 2024



