কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শনিবার কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি আরজি কর হাসপাতালের সামনে। একদিকে ভিতরে, আরজি করের পড়ুয়ারা। অন্যদিকে, বাইরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী পড়ুয়াদের বিশাল মিছিল। মাঝে ব্যারিকেড করে দাঁড়িয়ে কলকাতা পুলিশ! প্রতিবাদ তুমি কার? এই নিয়ে ঝামেলা। আরজি করের পড়ুয়াদের বক্তব্য, তাঁরা এই আন্দোলনে রাজনীতির রঙ লাগতে দিতে চাননা। আর বাইরে এই ঘটনার যোগ্য বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারী বক্তব্য, আরজি করের পড়ুয়ারা তৃণমূলপন্থী!
দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ এবং হাতাহাতি চরম পর্যায়ে পৌঁছলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসরে নামে পুলিশ। বহিরাগত ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাপক মারধর করে আটক করা হয়। অনেককে চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে সরিয়ে দেওয়া হয় ঘটনাস্থল থেকে। যে দৃশ্য দেখে কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। অবশেষে শনিবার সন্ধ্যে নামতে না নামতেই আরজি কর হাসপাতালের দখল নিল সেই কলকাতা পুলিশই। বামেদের তরফ থেকে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে আরজি কর হাসপাতালের চারতলার সেমিনার হল থেকে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার। শহরের অন্যতম প্রসিদ্ধ হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহল।
শুক্রবার গভীর রাতে সঞ্জয়কে দেখা গিয়েছিল হাসপাতালে চারতলার সেমিনার হলের আশেপাশে। সেই সময় ওই চিকিৎসক ৩৬ ঘন্টা কাজের পর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সেমিনার হলে। সেখানের দরজা বন্ধ ছিল না। অনুমান, তখনই এই ‘ঘৃণ্য অপরাধ’ ঘটান সঞ্জয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপরাধীর ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। বিরোধীদের তরফে যে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল, সেই দাবিকেও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।



