কলকাতা পুলিশের পাঁচ থানার পুনর্বিন্যাস: ভবানীপুরে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন

শহর নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ, ভবানীপুর বিধানসভার পুরো এলাকা এ বার সাউথ ডিভিশনের আওতায়

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে কলকাতা পুলিশের পাঁচ থানার পুনর্বিন্যাস করা হল। নবান্ন ও লালবাজারের তরফে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শহরের দুই গুরুত্বপূর্ণ থানা—পার্ক স্ট্রিট ও আলিপুর থানার এলাকা আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার পুরো অংশ এখন কলকাতা পুলিশের সাউথ ডিভিশনের আওতায় চলে আসায় প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন ঘটেছে।

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, শহরের জনবসতি, অভিযোগ নিষ্পত্তির গতি এবং পুলিশ অ্যাক্সেসিবিলিটি বাড়াতেই এই পুনর্বিন্যাস। কলকাতা পুলিশের পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নতুন থানার অবস্থান ও অভিযোগ জানানোর নিয়ম জানানো হয়েছে।

এই পুনর্বিন্যাস অনুযায়ী, ওয়াটগঞ্জ ও একবালপুর থানার বেশ কিছু অংশ এখন দক্ষিণ কলকাতার আলিপুর থানার অন্তর্ভুক্ত। এর আগে এলাকাগুলি পড়ত বন্দর বিভাগের আওতায়। একইভাবে, নিউ মার্কেট থানার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আনা হয়েছে পার্ক স্ট্রিট থানার অন্তর্ভুক্তিতে

এর ফলে মাঝ কলকাতা ও বন্দর এলাকার কিছু অংশ যুক্ত হল দক্ষিণ কলকাতার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে, যা কলকাতা পুলিশের পুনর্বিন্যাস সিদ্ধান্তের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক।

পুলিশ সূত্রে স্পষ্ট, নাগরিক সুবিধা এবং দ্রুত অভিযোগ সমাধানই এই পুনর্বিন্যাসের মূল লক্ষ্য। বিশেষত ভবানীপুর বিধানসভার পুরো অংশ এখন থেকে সাউথ ডিভিশনের সিস্টেমের অধীনে কাজ করবে।

ভবানীপুর কলকাতার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র হওয়ায় এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবসময়ই নজরে থাকে। কলকাতা পুলিশের পুনর্বিন্যাস সিদ্ধান্তে সাউথ ডিভিশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ভবানীপুরে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা, টহলদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উন্নতি হবে বলে লালবাজারের দাবি।

স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নতুন থানায় অভিযোগ করতে সচেতন করা হয়েছে এবং কোথায় FIR বা GD করতে হবে তাও পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে। এতে বিভ্রান্তি কমবে এবং পুলিশের কার্যক্ষমতা আরও বাড়বে।

পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, আলিপুর থানার উত্তর সীমা এখন কার্ল মার্কস সরণি, টালি নালা ও বেলভেডেরা রোড পর্যন্ত বিস্তৃত। পশ্চিমে রয়েছে পোর্ট ল্যান্ড পার্ক থেকে ডায়মন্ড হারবার রোড ও রিমাউন্ট রোড পর্যন্ত অংশ। অন্যদিকে কিড স্ট্রিট ও সদর স্ট্রিটের কিছু অংশ এখন পার্ক স্ট্রিট থানার আওতায়।

এই নতুন মানচিত্র অনুযায়ী কলকাতা পুলিশের পুনর্বিন্যাস শহরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলগত পদক্ষেপ গোটা দক্ষিণ কলকাতার সিকিউরিটি নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করবে। ব্যস্ততম পার্ক স্ট্রিট, এলিট রেসিডেন্সিয়াল জোন আলিপুর এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভবানীপুর—তিনটিই এক বলয়ের মধ্যে আসায় পুলিশ রেসপন্স টাইম কমবে এবং নজরদারি আরও ঘন হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে শহর নিরাপত্তা ও প্রশাসনকে আধুনিক ও স্মার্ট প্যাটার্নে নিয়ে যাওয়ার যে উদ্যোগ, কলকাতা পুলিশের পুনর্বিন্যাস তারই বড় প্রমাণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত