নজরবন্দি ব্যুরোঃ চিনের একটি শহর থেকেই প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন ৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ। বিশ্বের বড় বড় সংস্থা বলছে এরম চলতে থাকলে মাত্র ২০ দিনে ২৫ কোটির বেশি মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে যে শুধু চীনেই আটকে থাকবে তা নয়, ভারতের মতো জনবহুল দেশেও যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে তাতে সন্দেহ নেই। ইতিমধ্যেই নতুন করোনা স্ট্রেনে আক্রান্ত সংখ্যা ১৬৭ জন। রাত পোহালেই বড়দিনের উৎসব। এই উপলক্ষে তিলোত্তমা নগরীর বুকে মানুষের ঢল নামবে। কেউ যে বিধি মানবে না তা ধরেই রেখেছে কেন্দ্র-রাজ্য। তাই কোভিড বিধি কড়াকড়ি করতে চার্চে চার্চে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এবার অপেক্ষা শুধু লকডাউনের, ২৪ ঘণ্টায় হু হু করে বাড়ছে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা


বড়দিনে মুখে অবশ্যই পরতে হবে মাস্ক। গির্জাগুলিতে কোভিড বিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি গির্জাগুলিতে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেই মতোই গির্জাগুলির তরফে পূণ্যার্থী এবং দর্শনার্থীদের কোভিড বিধি মেনে চলার জন্য আর্জি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ভিড় এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গির্জার ভিতরে যারা বিশেষ প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করবেন তাদের অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে।

কোভিড আতঙ্কে ত্রস্ত বিশ্ব। চিন সহ বেশ কয়েকটি দেশে তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনার নয়া স্ট্রেন। গত কয়েক সপ্তাহে চিনে ব্যাপকহারে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে আগামী কয়েক মাসে দেশটিতে ১০ লক্ষেরও বেশি মৃত্যু হতে পারে। ওমিক্রনের সাব-ভেরিয়েন্ট BF.7 চিনের করোনা সংক্রমণের বৃদ্ধির জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাও বিষয়টি নিয়ে ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’ বলেই এক বিবৃতি জারি করেছে। করোনা-সুনামি আটকাতে তৎপর কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই দফায় দফায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হয়েছে পর্যালোচনা বৈঠক। কলকাতা বিমান বন্দরেও জারি চুড়ান্ত সতর্কতা।

কোভিড আতঙ্কে ত্রস্ত বিশ্ব, বড়দিনের কলকাতায় মানতে হবে বাধ্যতামূলক নিয়ম নতুবা লকডাউন



কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রীদের উপরই কোভিড বিধি জারি করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে আগত প্রত্যেক যাত্রীর সঙ্গে করোনা ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়ার শংসাপত্র থাকতে হবে। কোনও যাত্রীর মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আইসোলেট করা হবে। কলকাতা বিমানবন্দর এর ব্যতিক্রম নয়। উৎসবের আলোকনগরীতে অনেকেই ফিরবেন ঘরে। কিন্তু তাঁর আগে অবশ্যই পেরোতে হবে নিরাপত্তার অগ্নিপরীক্ষা। যে সকল যাত্রী বিদেশ থেকে আসছেন বিমান বন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক যাত্রীর থার্মাল স্ক্রিনিং টেস্ট ব্যবস্থা করা হয়েছে পাশাপাশি কোভিড বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের। নয়তো উৎসব পেরোলেই আবারও লকডাউনে গৃহবন্দি দশায় ফিরে যেতে হবে, এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।







