৩১তম আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব (Kolkata International Film Festival 2025) শুরু হচ্ছে আগামী ৬ নভেম্বর থেকে। এক সপ্তাহব্যাপী এই উৎসব চলবে শহর জুড়ে, যেখানে সেলুলয়েডে ধরা পড়বে দেশ-বিদেশের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র। এবারের উৎসবের শুভ সূচনা হবে অজয় কর পরিচালিত, উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন অভিনীত কালজয়ী বাংলা ছবি ‘সপ্তপদী’ দিয়ে।
মঙ্গলবার নন্দনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উৎসবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ৬ নভেম্বর বিকেল ৫টায় ধনধান্য স্টেডিয়ামে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবারের মতো এ বছরও বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়।
এই বছরের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৫-এ ৩৯টি দেশ থেকে নির্বাচিত ২১৫টি চলচ্চিত্র দেখানো হবে। এর মধ্যে ১৮৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি এবং ৩০টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের সিনেমা অন্তর্ভুক্ত। কোঙ্কনি, তুলু, সাঁওতালি, বোরো সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্রও জায়গা পাচ্ছে এবারের তালিকায়। উৎসবের ‘ফোকাস কান্ট্রি’ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে পোল্যান্ড, যেখানে দেখানো হবে তাদের সেরা সমকালীন ও ক্লাসিক সিনেমা।
এই বছর ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবর্ষ। ১৯২৫ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকায় জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি পরিচালককে শ্রদ্ধা জানাতেই এবারের উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে তাঁর প্রতি। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নতুন প্রজন্মের জন্য এটা অনন্য উদ্যোগ। ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারা আমার প্রিয় সিনেমাগুলির মধ্যে একটি। এখনও মন খারাপ থাকলে দেখি, ভালো লাগে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকছেন অভিনেত্রী জুন মালিয়া ও অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। জুন বলেন, “৩১ বছর ধরে এই উৎসবের সঙ্গে যুক্ত আছি। কলেজ জীবনে কাজ করতাম স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে, আর এখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে সঞ্চালনা করছি—ভাবলে ভীষণ নস্টালজিক লাগে।”
এ বছরের উৎসবে শুধু সিনেমা নয়, থাকছে আলোচনা, চলচ্চিত্র কর্মশালা এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের অংশগ্রহণে বিশেষ সেশন। বিভিন্ন দেশের পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতারা হাজির হবেন তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে। কলকাতার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে যেমন নন্দন, রবীন্দ সরোবর, শিশির মঞ্চ ও ধনধান্য স্টেডিয়ামে হবে প্রদর্শনী।
চলচ্চিত্র উৎসবের এই মহাযজ্ঞে কলকাতা আবারও পরিণত হবে সিনেমা প্রেমীদের প্রাণকেন্দ্রে। দর্শক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ছাত্রছাত্রী—সকলের জন্যই এটি হবে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।



