কলকাতার সবুজ সম্পদ এবার ডিজিটাল মানচিত্রে। শহরের প্রতিটি গাছের অবস্থান, প্রজাতি, উচ্চতা ও বয়স—সব তথ্য এক ক্লিকে জানার সুযোগ করে দিচ্ছে Kolkata Municipal Corporation (KMC)। শহরের প্রথম Digital Green Database তৈরি করতে চলেছে পুরসভা, যা কলকাতার পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে পুরসভার কাছে শহরে মোট কতটি গাছ আছে, তার নির্ভুল তথ্য নেই। উদ্যান বিভাগের এক আধিকারিক জানান, “রাস্তা, পার্ক ও খোলা জায়গা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ গাছ রয়েছে বলে ধারণা, কিন্তু সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।” সেই কারণেই এবার পুরসভার লক্ষ্য—একটি আধুনিক ও ইন্টার্যাক্টিভ বৃক্ষ ডেটাবেস তৈরি করা, যা নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।



পুরসভার এই প্রকল্পে ব্যবহৃত হবে আধুনিক প্রযুক্তি। শীঘ্রই দরপত্র ডাকা হবে বড়সড় সমীক্ষার জন্য, যেখানে প্রতিটি গাছের জিপিএস লোকেশন, প্রজাতি, উচ্চতা, বয়স ও অবস্থা রেকর্ড করা হবে। এরপর সেই তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষণ করে পুরসভার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপে দেখা যাবে। ব্যবহারকারীরা মানচিত্রে গাছের অবস্থান দেখতে পারবেন—কোন পার্কে বা রাস্তায় কত গাছ আছে, কী প্রজাতির—সবই থাকবে এক ক্লিক দূরে।
একজন পুরকর্তা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি Green Digital Map তৈরি করা, যেখানে নাগরিকেরা রাস্তায় নাম লিখলেই গুগল ম্যাপে দেখতে পাবেন, কোন গাছ কোথায় রয়েছে, তার প্রজাতি ও উচ্চতা কত।” এমনকি এই প্রকল্পে ড্রোন সার্ভে ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে সমীক্ষা আরও নিখুঁত হয়।
এই প্রকল্পের সুফল বহুমুখী। একদিকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নগর পরিকল্পনায় সাহায্য করবে, অন্যদিকে গাছ কাটার অনুমতি, নতুন গাছ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত পুরসভার কাজ অনেক সহজ হবে। শহরের Tree Census Data আপডেট থাকলে, ভবিষ্যতে গাছ সংক্রান্ত অনিয়ম বা ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।


পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা পুরসভার এই পদক্ষেপ ‘Urban Green Management’-এর ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। ডিজিটাল ম্যাপে শহরের সবুজ সম্পদ তুলে ধরা গেলে নাগরিকদের সচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনই প্রশাসনের কাজও হবে সহজ ও স্বচ্ছ।
পুরসভার আশা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই Tender Process সম্পন্ন হবে এবং পূর্ণাঙ্গ Tree Mapping Survey শুরু করা যাবে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়, তবে ২০২৬ সালের মধ্যেই কলকাতা পাবে দেশের অন্যতম বৃহৎ Green Digital Tree Database—যা শহরের পরিবেশ ও সবুজ নীতিতে নতুন যুগের সূচনা করবে।







