‘আবর্জনা বইছি, আর নয়’, চোরবাগান বিপর্যয়ে অস্থায়ী হোমগার্ডদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় অস্থায়ী হোমগার্ডদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শহরের বড় পুজোয় ভিআইপি পাস বন্ধ, ২৬ অক্টোবর বিজয়া সম্মিলনীও হবে অনাড়ম্বর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চোরবাগান দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী হোমগার্ডদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ভবানী ভবনে তিনি দাবি করেন, বৃষ্টির মধ্যে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দড়ি ছেড়ে ভিতরে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “আবর্জনা বইছি, তবে আর নয়।” তাঁর হুঁশিয়ারি, “অ্যাকশন হবেই।” তবে দুর্ঘটনার দায় কার, তা তদন্তের আগে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর, মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারান ১৯ জন। বৃষ্টি ও বিপুল ভিড়ের মধ্যে কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার পর থেকেই মণ্ডপের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

রবিবার ভবানী ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, চোরবাগানের মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন অস্থায়ী হোমগার্ডরা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আচমকা বৃষ্টি শুরু হলে ওই কর্মীরা ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় দড়ি ছেড়ে ভিতরে চলে যান। এর ফলে দর্শনার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয় এবং বিশৃঙ্খলা বাড়ে বলে দাবি করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে অস্থায়ী হোমগার্ডদের নিয়োগ নিয়েও রাজনৈতিক ইঙ্গিত ছিল। পূর্বতন সরকারের আমলে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল—এমনটাই বোঝাতে চেয়েছেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। যদিও এই নিয়োগের প্রসঙ্গ এবং দুর্ঘটনায় তাঁদের নির্দিষ্ট ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ।

“আবর্জনা বইছি, তবে আর নয়”—মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস সামনে আসে। তবে কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর কলকাতার বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে প্রবেশের নিয়মেও পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবানী ভবনে বৈঠকের পর তাঁর নির্দেশ, দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিআইপি পাস বন্ধ রাখতে হবে। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য একটিমাত্র লাইন করে প্রবেশের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

প্রশাসনের লক্ষ্য, ভিড় নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রবেশপথ বা বিশেষ ব্যবস্থার কারণে যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করা। দুর্ঘটনার পর শহরের জনপ্রিয় মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশের উপর নির্ভর করবে।

চোরবাগানের দুর্ঘটনার প্রভাব পড়েছে রাজ্য সরকারের বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজনেও। আগামী ২৬ অক্টোবর রাজ্যের উদ্যোগে যে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা, তা কাটছাঁট করে অনাড়ম্বরভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন পুজো কমিটিগুলিকে ডাকা হবে। অনুষ্ঠানে দুর্ঘটনায় মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। পাশাপাশি আহতদের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

অর্থাৎ, উৎসবের বাকি সময়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরবাগানের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার বার্তাও দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। তবে অস্থায়ী হোমগার্ডদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দুর্ঘটনার দায় শেষ পর্যন্ত কার উপর বর্তাবে, তার উত্তর মিলবে তদন্ত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর