শীত বাড়ছে কি না, সেই প্রশ্নের মাঝে নতুন পূর্বাভাস। শনিবার ছিল চলতি মরসুমের সবচেয়ে শীতল দিন। এক ধাক্কায় প্রায় তিন ডিগ্রি নেমে গিয়ে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ১৪ ডিগ্রির ঘরে। রবিবার তাপমাত্রা অল্প উঠলেও শীতের স্বরূপ এখনও স্পষ্ট। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আগামী সাত দিন রাজ্যের তাপমাত্রায় বড় হেরফের না হলেও উত্তুরে হাওয়ার প্রবেশ অব্যাহত থাকবে।
শনিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.১ ডিগ্রি কম। রবিবার তা সামান্য বেড়ে ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৪ ডিগ্রি কম। শীত তাই বেড়েছে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে পরিসংখ্যান।


আগামী সাত দিনে কেমন ঠান্ডা পড়তে পারে? জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর
দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও শনিবার ২৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই আটকে ছিল, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৮ ডিগ্রি নীচে। রবিবার আকাশ পরিষ্কার থাকলেও তাপমাত্রার ওঠানামা খুব বেশি হবে না বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।

কেন কমছে পারদ? কী বলছে আলিপুর
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে কোনও ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ নেই। ফলে উত্তুরে ঠান্ডা হাওয়া বাধাহীনভাবে ঢুকছে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে। সেই প্রভাবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নীচে নামছে।
দফতর জানিয়েছে, আগামী সাত দিনে রাজ্যের তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন হবে না।
উত্তর ও দক্ষিণ—দুই বঙ্গে সকাল ও রাতের দিকে শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে। তবে জাঁকিয়ে শীত পড়ার মতো পরিস্থিতি এখনই তৈরি হয়নি।


কুয়াশার সতর্কতা জারি—দক্ষিণবঙ্গেই নয়, উত্তরবঙ্গেও সমস্যা। উত্তুরে হাওয়ার প্রভাবে শনিবার রাত থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘন কুয়াশা দেখা দিতে শুরু করেছে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে—
রবিবার ও সোমবার উত্তরবঙ্গের সব জেলায় কুয়াশার সতর্কতা জারি রয়েছে। দৃশ্যমানতা নেমে আসতে পারে— ৯৯৯ মিটার থেকে মাত্র ২০০ মিটার পর্যন্ত, যা রাস্তা ও রেল পরিবহনে সমস্যার কারণ হতে পারে।
কোথাও কোথাও সকালবেলা অতি ঘন কুয়াশায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। তবে বেলা বাড়লে কুয়াশা কেটে যাবে।
আগামী ৭ দিনের আবহাওয়ার সারসংক্ষেপ
— সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচেই থাকবে।
— বড় কোনও তাপমাত্রা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
— উত্তুরে হাওয়ার প্রবেশ অব্যাহত থাকবে।
— সকালবেলায় কুয়াশার দাপট বাড়বে।
— জাঁকিয়ে শীত নামতে এখনও কয়েকদিন লাগবে।
শীতপ্রেমীরা তাই এখনও কিছুটা অপেক্ষায়। আর যাঁদের কুয়াশায় যাতায়াতের সমস্যা হয়, তাঁদের জন্য সতর্কতা বজায় রাখাই শ্রেয়।







