রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়তে পারেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক— এমন জল্পনাই এখন রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলের চর্চার কেন্দ্রে। তৃণমূলের সাংসদ ভাঙনের আবহে অভিনেত্রীর হঠাৎ দিল্লি সফর ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোয়েলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছা কোয়েল মল্লিকের রয়েছে, এমন ধারণা আগে কখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সেই কারণেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস যখন তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে, তখন বিস্মিত হয়েছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকেই।



রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় কোয়েলের পাশাপাশি ছিলেন প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তার কিছুদিন আগেই মল্লিক পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তৎকালীন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
এপ্রিল মাসে দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন কোয়েল। সেই সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তিনি। শপথ গ্রহণের পর অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, দেশের ও মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের বিষয় এবং এই দায়িত্ব পাওয়াকে তিনি সৌভাগ্যের বলে মনে করেন।
তৃণমূলের অন্দরের একাংশের মতে, পঞ্জাবি পরিবারে বিবাহিত হওয়ায় কোয়েলকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে ভবানীপুরের পঞ্জাবি ভোটারদের কাছে একটি বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছিল দল। তবে পরবর্তী নির্বাচনী ফলাফলে সেই রাজনৈতিক হিসাব খুব একটা কার্যকর হয়নি বলেই মত অনেকের।


দলের অন্দরে আরও একটি ব্যাখ্যা ঘোরাফেরা করছে। শোনা যায়, কোয়েলের স্বামী বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যদিও অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের একাংশ এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কোয়েল কখনও ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি এবং ভবিষ্যতেও নেবেন না।
কোয়েলের রাজ্যসভায় যোগদানের সময় তাঁর বাবা, অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকও মেয়ের বিচক্ষণতার উপর আস্থা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কোয়েল যথেষ্ট পরিণত এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে সক্ষম।
বর্তমানে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। সাংসদদের একাংশের অবস্থান নিয়ে জোর চর্চা শুরু হলেও, কোয়েল মল্লিক কোনও বিদ্রোহী রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেবেন বলে মনে করছেন না তাঁর পরিচিতরা। বরং রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দূরে সরে গিয়ে সম্মানজনক অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মত তাঁদের।
তবে দিল্লি সফর এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ নিয়ে চলা জল্পনার মাঝেও কোয়েল মল্লিক এখনও নীরব। সোমবার সকাল থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



