নজরবন্দি ব্যুরোঃ কিছুদিন আগের কথা। সময়টা ছিল ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন। ববি হাকিম বসে চা খাচ্ছিলেন সিপিআইএমের ক্যাম্পে। বাংলার রাজনীতির সাম্প্রতিক উত্তপ্ত আবহের মাঝে এমন সৌজন্য চিত্র বড় একটা দেখা যায় না। তৃণমূলের হাইপ্রোফাইল নেতা কি না সিপিআইএম ক্যাম্পে? উপস্থিত সিপিএম নেতা বলেছিলেন, আমাদের রাজনীতির সম্পর্ক নয়, অন্যরকম রিলেশন! তেমন সম্পর্কই দেখা গেল কলকাতা কর্পোরেশন নির্বাচনে।
আরও পড়ুনঃ সরু নেতা – মোটা নেতার কথায় সংগঠন চলেনা! রবীন্দ্রনাথকে চরম কটাক্ষ উদয়নের।


রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেমন আগেও ছিল তেমনি ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু সৌজন্য প্রকাশে কোন বাধা নেই। আজ পুরভোটের প্রচারে এরকমই এক সৌজন্য বিনিময়ের সাক্ষী থাকল কলকাতা। সিপিআইএমের মিছিল দেখে মাইক বন্ধ করল তৃণমূল! যেখানে মুখোমুখি দেখা হওয়ার পর কুশল বিনিময়ের সঙ্গে দেখা পাওয়া গেল বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকে প্রণামের দৃশ্য। ঘটনাস্থল কলকাতা পুরসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ড।
রবিবার দলীয় প্রার্থীর প্রচারে সেখানে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। প্রচারে বেরিয়ে দলেরই এক যুবনেতার সদ্যোজাত পুত্রকে দেখতে যাচ্ছিলেন। সামনে এসে পড়ে স্থানীয় সিপিআইএম প্রার্থীর সমর্থনে চলা একটি মিছিল। ওই মিছিলে ছিলেন রবীন দেব এবং সুজন চক্রবর্তী। দুই পরিচিতকে দেখতে পেয়ে সৌজন্যের হাত তুলে এগিয়ে যান কুণাল। এগিয়ে আসেন তাঁরাও। রবীনকে প্রণাম এবং সুজনের সঙ্গে হাত মেলান তিনি। হয় পারস্পরিক কুশল বিনিময়।
সিপিআইএমের মিছিল দেখে মাইক বন্ধ করল তৃণমূল, প্রনাম – করমর্দন – ইতিহাস

এরপরেই কার্যত কলকাতার বুকে ইতিহাস রচনা হয়। কিছুক্ষন পরে একটি মঞ্চে তৃণমূলের রাজনৈতিক সভা চলছিল, বক্তা ছিলেন কুনাল ঘোষ। তখন সিপিআইএমের মিছিলটি ঘুরে সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। মাইক বন্ধ করে দিয়ে কুণাল বলেন, “মিছিল চলে যাওয়ার পর ফের আবার কথা হবে। ওঁদের অসুবিধা হতে পারে। রবীনদা এবং সুজনদা আমাদের এই ওয়ার্ডের অতিথি। তাঁদের শুভেচ্ছা।” যদিও মঞ্চ থেকে কুণাল-সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতা এবং সিপিআইএম, দু’পক্ষই কিন্তু পরস্পর পরস্পরকে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছেন।










