টিম ইন্ডিয়ার তিন ফর্ম্যাটের ভরসা কেএল রাহুল আবারও প্রমাণ করলেন নিজের ক্লাস। আমেদাবাদ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি পেলেন বহু প্রতীক্ষিত সেঞ্চুরি। এই সেঞ্চুরির বিশেষত্ব, ঘরের মাঠে তিনি ৩২১১ দিন পর টেস্ট শতরান করলেন।
প্রথম দিন অর্ধশতক করার পর দ্বিতীয় দিনে ইনিংসকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরিত করেন রাহুল। ১৯২ বল খেলে শতরান পূর্ণ করার পর ১৯৭তম বলে আউট হন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১২টি চমৎকার বাউন্ডারি। এটি ছিল রাহুলের কেরিয়ারের ১১তম টেস্ট সেঞ্চুরি।


২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে চেন্নাইয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি শেষবার ঘরের মাঠে সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেই থেকে টানা ২৬ ইনিংস অপেক্ষার পর অবশেষে ঘরের মাঠে শতরান পেলেন তিনি। এই দীর্ঘ ব্যবধান রাহুলকে নিয়ে গিয়েছে বিশেষ এক তালিকায়। ঘরের মাঠে দুই সেঞ্চুরির মাঝে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ক্ষেত্রে তিনি হলেন ভারতের চতুর্থ ক্রিকেটার। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, যিনি ৩৬ ইনিংস পর ঘরের মাঠে শতরান করেছিলেন।
টেস্ট কেরিয়ারের সেরা বছর কাটাচ্ছেন রাহুল
২০২৫ সাল রাহুলের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে উঠছে। এ বছর তিনি সাতটি টেস্ট ম্যাচে ১৩ ইনিংসে করেছেন ৬৪৯ রান, গড় ৫৪.০৮। এই সময়ের মধ্যে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে তিনটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফসেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ১৩৭। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে তিনি ১০ ইনিংসে করেছিলেন ৫৩২ রান, ছিলেন সিরিজের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
এর আগে ২০১৭ সাল ছিল রাহুলের অন্যতম সেরা বছর, যখন তিনি ১৪ ইনিংসে করেছিলেন ৬৩৩ রান, গড় ছিল ৪৮.৬৯।


শুভমান গিলের রেকর্ডও আলোচনায়
একই ম্যাচে আরেক ভারতীয় ব্যাটার শুভমান গিল হাফ সেঞ্চুরি করে তৈরি করেছেন এক বিশেষ রেকর্ড। তিনি হলেন দ্বিতীয় ভারতীয় অধিনায়ক, যিনি ঘরের মাঠে অভিষেক সিরিজে ৫০ বা তার বেশি রান করলেন। এতদিন পর্যন্ত এই কৃতিত্ব ছিল কেবলমাত্র সুনীল গাভাসকরের দখলে।
এই সেঞ্চুরি কেবল রাহুলের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর দৃঢ় প্রত্যাবর্তনের প্রতীকও বটে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আসন্ন বিদেশ সফরগুলোতেও রাহুল ভারতকে ভরসা যোগাবেন।








