ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর ঘোষণার মুহূর্তেই আবেগে ভেঙে পড়লেন সরকারি টেলিভিশনের সংবাদ পাঠক। কাঁদতে কাঁদতে খবর পড়ার সেই দৃশ্য ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। কিন্তু আবেগের এই মুহূর্তের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বদলাচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি—প্রত্যাঘাত, পাল্টা হামলা এবং রাজনৈতিক পালাবদলে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা অঞ্চল।
ইরানের সরকারি টিভিতে খামেনেইয়ের মৃত্যুসংবাদ ঘোষণার সময় সংবাদ পাঠকের কান্না দেশজুড়ে শোকের আবহকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। যদিও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া একরকম নয়—কেউ শোকে ভেঙে পড়েছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনায় আশার আলো দেখছেন।

পাল্টা আঘাতে ইরান
খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ভয়াবহ পাল্টা হামলার দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অন্তত ২৭টি মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ইজরায়েলের তেল নফ এয়ারবেস এবং তেল আভিভে সামরিক সদর দফতরেও মিসাইল হামলার দাবি উঠেছে।
ইজরায়েলের বিভিন্ন শহরে রবিবার সকাল থেকেই ঘনঘন বাজছে এয়ার রেড সাইরেন। কুয়েত, কাতার ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
নতুন সুপ্রিম লিডার ঘোষণা
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই দ্রুত উত্তরসূরি ঘোষণা করেছে তেহরান। নিহত আলি খামেনেইয়ের পুত্র মোজতবা খামেনেই নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ১৯৮৯ সালে রুহোল্লা খোমেইনির মৃত্যুর পর যেভাবে দ্রুত নেতৃত্ব বদল হয়েছিল, এবারও সেই ধারাই বজায় রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


যুদ্ধ ছড়াল উপসাগরীয় অঞ্চলে
সংঘাত শুধু ইরান ও ইজরায়েলে সীমাবদ্ধ নেই। ড্রোন হামলার খবর মিলেছে দুবাই ও আবু ধাবির বিমানবন্দরে। কাতারে আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন, ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বহু জায়গায় বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রাণহানি
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, মার্কিন–ইজরায়েলি হামলায় ইরানে অন্তত ১৩০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তেহরান-সহ বিভিন্ন শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধারকাজ চলছে। মাশাদে শিয়া ধর্মস্থল ইমাম রেজার মাজারে শোকপ্রদর্শনে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ।

অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করে ক্ষমতার শূন্যতা এড়াতে চাইছে ইরান। তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির। ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর চেষ্টা ব্যর্থ হবে কি না, কিংবা সংঘাত আরও বৃহৎ যুদ্ধে রূপ নেবে—তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের উপর।







