বিজেপি বিরোধী মহাজোটে জোড়া কাঁটা কেজরিওয়ালের আপ ও মায়াবতির বসপা।

বিজেপি বিরোধী মহাজোটে জোড়া কাঁটা কেজরিওয়ালের আপ ও মায়াবতির বসপা।
বিজেপি বিরোধী মহাজোটে জোড়া কাঁটা কেজরিওয়ালের আপ ও মায়াবতির বসপা।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিজেপি বিরোধী মহাজোটে জোড়া কাঁটা কেজরিওয়ালের আপ ও মায়াবতির বসপা। গত লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। তারপর থেকেই বিরোধী দলগুলি বুঝতে পারে মোদীকে হটাতে এককাট্টা হয়ে লড়াইয়ে নামতে হবে দেশের সমস্ত বিজেপি বিরোধী দল্গুলিকে। একগুচ্ছ বিরোধী নেতাকে একমঞ্চে এনে এই জোট তৈরির কাজ প্রথম শুরু করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য হওয়া রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির রথ একা হাতে থামিয়ে দিয়েছেন মমতা। আসাম ছাড়া কোন রাজ্যেই তেমন সুবিধা করতে পারেনি বিজেপি।

আর তারপর থেকেই পরের লোকসভা নির্বাচনে মোদীকে হারিয়ে বিরোধী দলগুলির ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন আরও শক্তিশালী হয়েছে। আগামী মাসে এবং পরের বছর বেশ কিছু রাজ্যে নির্বাচন। এমন অবস্থায় মোদী বিরোধী ঐক্যশক্তি দেখাতে কার্যত মরিয়া বিরোধী দলগুলি। এমন সময় মহাজোটে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুটি দল। তারা হল দিল্লীর শাসকদল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ) এবং মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বসপা)। মমতার সঙ্গে দুই দলেরই সুসম্পর্ক থাকলেও কেন তারাই কাঁটা হয়ে উঠছেন বিরোধী জোটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রসের সঙ্গে কার্যত সাপে-নেউলে সম্পর্ক আম-আদমি পার্টির। কারণ আগামীদিনে দিল্লী ও পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচনে প্রধান লড়াই এই দুই দলের। সেখানে দাঁড়িয়ে আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি বিরোধীতার ক্ষেতের তাদের নৈতিক সায় থাকলেও সোনিয়া এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কখনই একমঞ্চে আসতে পারবেন না তারা।

আরও পড়ুনঃ তিন দশকের সম্পর্ক ছিন্ন, ১০০০ সমর্থক নিয়ে তৃণমূলে এলেন আদি বিজেপি নেতা বিষ্ণু প্রকাশ।

অন্যদিকে রয়েছেন মায়াবতী। কারণ এর আগে সংসদের রাজ্যসভায় যখন কৃষি বিল নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব সরব হয়েছিলো সেই সময় সেই আন্দোলনে দেখা যায়নি বিএসপিকে। এমনকি উনিশের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে যখন বিজেপি বিরোধী জোট ধরাশায়ী অবস্থা সেই সময়েও অভিযোগ ওঠে, বিজেপির বি-টিম হিসাবে কাজ করেছিলেন মায়াবতী। সেখানে দাঁড়িয়ে আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিএসপি গোপনে বিজেপির হয়ে কাজ করতে পারে বলেও মনে করছেন বিজেপি বিরোধী মহল। এছাড়াও বর্তমান সময়ে একাধিক ইস্যু নিয়ে বিরোধীরা বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুললেও সেই সমস্ত প্রতিবাদে বসপার সক্রিয়তা একেবারেই চোখে পড়েনি। ফলে আগামী দিনে বিজেপি বিরোধী জোটে এই দুটি দল কতোটা অংশ নেবে তা নিয়ে এখন থেকেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে বিরোধী ঐক্য জোরদার করার নীতি নেওয়া হতে পারে।

বিজেপি বিরোধী মহাজোটে জোড়া কাঁটা কেজরিওয়ালের আপ ও মায়াবতির বসপা। সেক্ষেত্রে বাংলায় ও তামিলনাড়ুতে সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরোধীতা করে বড়ো জয় পাওয়া তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে প্রথমসারির ভূমিকায় থাকতে পারে। আর এই ঐক্যের ক্ষেত্রে একটা সময়ের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ শরিক শিবসেনা ও শিরোমণি অকালি দল বাড়তি অক্সিজেন জোগাতে পারে। ফলে আগামী দিনে বিজেপি বিরোধীতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে সংসদের ভিতরে ও বাইরে মোদী বিরোধিতায় নামতে চাইছে অবিজেপি রাজনৈতিক দলগুলি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here