নজরবন্দি ব্যুরোঃ তিন দশকের সম্পর্ক ছিন্ন, ১০০০ সমর্থক নিয়ে তৃণমূলে এলেন আদি বিজেপি নেতা বিষ্ণু প্রকাশ। ভোটের আগে শাসকদল তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক পরে গিয়েছিল। শুভেন্দু-রাজীব ছাড়াও সোনালি, রবীন্দ্রনাথ,জটু, দিপেন্দু তালিকা বহু লম্বা। তবে দলবদলের মধ্যেও ২০০ র বেশি আসন পেয়ে রাজ্যে তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর রাজ্যে মুখ থুবড়ে পরেছে বিজেপি। আর তারপর থেকেই বিজেপি থেকে ফের তৃণমূলে ফেরার জন্য হিড়িক পরে গেছে। যদিও তৃণমূলের তরফ থেকে এই ব্যাপারে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে সোনালি, দিপেন্দুর মত বেশ কিছু দলছাড়া ফের দলে ফেরার জন্য প্রকাশ্যে আবেদন করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ৫০ হাজার কৃষক ঢুকতে পারে দিল্লী, আশঙ্কায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা রাজধানীতে।
প্রবীর-রাজীবের গলাতেও বিদায়ের সুর। এমন অবস্থায় রাজ্য বিজেপির অবস্থা যথেষ্ট কোণঠাসা। এরই মধ্যে ফের ধাক্কা এল বিজেপিতে। নব্য কেউ নন দলের সাথে ৩৪ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করলেন আদি বিজেপি নেতা বিষ্ণু প্রকাশ সরকার। গতকাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিজেপির নানুর সি-মণ্ডল সম্পাদক। ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। বিষ্ণু প্রকাশ সরকার আজ তুলে নিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা। শুধু তিনি নন, বিজেপি শিবিরে বড়সড় ভাঙন ধরিয়ে আজ প্রায় এক হাজার বিজেপি কর্মী সমর্থক তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। তাদের সকলকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা বীরভূম জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কেরিম খান। দীর্ঘদিন ধরে দলে থাকলেও যোগ্য সম্মান না পাওয়া এবং বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েই দল ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন বিষ্ণুবাবু।
তিনি জেলে থাকা অবস্থায় বিজেপি সাহায্য না করলেও তৃণমূলের জন্যই জেল থেকে বেরিয়েছেন তিনি। তাই এই দলে যোগদান বলেও জানান তিনি। এদিকে তাঁর দলে যোগদান নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কেরিম খান বলেন, “নির্বাচনের আগে থেকেই এলাকাতে বেশ কিছু বিজেপি সমর্থক সন্ত্রাস করে বেড়াচ্ছিল। মানুষকে ভয় দেখিয়ে, ভুল বুঝিয়ে তারা এলাকাতে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল। নির্বাচনের ফল বেরোবার পর সেই সমস্ত লোকজন এবং আরও বেশকিছু বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা নিজেরাই ভয়ে গ্রাম ছাড়া হয়েছিল।” তাদের সকলকে শান্তিপূর্ণভাবেই গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।
তিন দশকের সম্পর্ক ছিন্ন, ১০০০ সমর্থক নিয়ে তৃণমূলে এলেন আদি বিজেপি নেতা বিষ্ণু প্রকাশ। ঘরে ফেরা এই সমস্ত গ্রামবাসীরা সপরিবারে এদিন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন “যাঁরা আজকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন, তাঁরা আজীবন তৃণমূল কংগ্রেসে থাকবেন বলেও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন।” এদিকে এই দলবদলের ফলে স্থানীয় তথা গোটা রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্ব ফের ধাক্কা খেল সেকথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।



