প্রায় একমাস হতে চলল, অবশেষে জানা গেল একাধিক গাফিলতি রেলের, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার রিপোর্ট জমা সেফটি কমিশনের। একাধিক গাফিলতির কথা উল্লেখ করে রেল বোর্ডের কাছে রিপোর্ট জমা করেছে চিফ কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির জনককুমার গর্গ । রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে চালক, স্টেশন মাস্টারদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব। পাশাপাশি ট্রেন অপারেশনেও একাধিক ত্রুটি ছিল বলে জানানো হয়েছে।



রেলের গাফিলতির কথা উল্লেখ করে প্রাথমিক ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচল পরিচালনা করার মতো উপযুক্ত প্রশিক্ষণের যথেষ্ট অভাব ছিল ট্রেনচালক, ট্রেন ম্যানেজার এবং স্টেশন মাস্টারের। যদিও দুর্ঘটনার পরদিন থেকেই রেলের তরফ থেকে সিগনালিং ত্রুটি ও মাল গাড়ির চালকের ওপর দোষারোপ চাপানো হচ্ছিল।

এবার রিপোর্টেও সেই ত্রুটির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মালগাড়ির চালককে দেওয়া কাগুজে অনুমতিপত্রে নির্দিষ্ট গতির কথা কোনো উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়াও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা খারাপ থাকলে যে পদ্ধতিতে ট্রেন চলানো উচিত, তাও মানা হয়নি। যে ফর্মে ট্রেন চালানোর অনুমতি চালক এবং টেন ম্যানেজারদের দেওয়া হয় রাঙাপানির স্টেশন মাস্টার তাও দেননি বলেই সুরক্ষা কমিশনার ওই রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন।


একাধিক গাফিলতি রেলের, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার রিপোর্ট জমা সেফটি কমিশনের

প্রসঙ্গত, ১৭ জুন উত্তরবঙ্গের নিজবাড়ি এবং রাঙাপানি স্টেশনের মাঝে মাল গাড়ির ধাক্কায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস।একই লাইনে চলার অনুমতি পাওয়া কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসকে পিছন থেকে এসে সজোরে ধাক্কা মারে একটি মালগাড়ি। ধাক্কার জেরে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের একাধিক কামরা মালগাড়ির ইঞ্জিনের উপর উঠে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হন প্রায় ৫০। এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে রেলের গাফিলতি নিয়ে। রেলের তরফে এই দুর্ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য সুরক্ষা কমিশনারকে।







