তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার পর সরাসরি তাঁর বাড়িতে পৌঁছে গেলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আহত সাংসদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানতে চান তিনি। এই হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
রবিবার দুপুরে আক্রান্ত হওয়ার পর বাড়িতে ফেরেন লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর পেয়ে বিকেল প্রায় ৩টা নাগাদ তাঁর বাসভবনে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের খবর, হামলার পরিস্থিতি, হামলাকারীদের সংখ্যা এবং সাংসদের আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
ঘটনার পরই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, একের পর এক তৃণমূল নেতাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নষ্ট করা হচ্ছে এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমনের চেষ্টা চলছে।
জানা গিয়েছে, রবিবার চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে যাচ্ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল। সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ, চণ্ডীতলা এলাকায় থানার কাছাকাছি পৌঁছতেই বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রতিনিধিদল। প্রথমে কালো পতাকা দেখানো হয় এবং বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তৃণমূলের অভিযোগ, এরপর সাংসদকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে রাস্তায় পড়ে যান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তিও হয় বলে দাবি।
ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একজন সাংসদ যদি এভাবে আক্রান্ত হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তিনি ঘটনার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের প্রতিবাদের আহ্বান জানান।
এই ঘটনার পর আহত সাংসদের পাশে দাঁড়াতে তাঁর বাড়িতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এই হামলার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।



