নজরবন্দি ব্যুরোঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল শনিবার (২৭ আগস্ট)। ১৯৭৬ সালের এ দিনে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাই কবি নজরুলের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আজ ২৯ আগস্ট সোমবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শিশির মঞ্চে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে সবার সাদর আমন্ত্রণও করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ২১-এর সঞ্চালক এখন জেলে, ২৯-এর সমাবেশে কি বার্তা দেবেন মমতা? তাকিয়ে সবাই।


পরাধীন ভারতভূমে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীনতাকামী এ কবি। ফকির আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের পর পর চার পুত্রের মৃত্যুর পরে নজরুলের যখন জন্ম হল, তাঁর নাম রাখা হল দুখু মিয়াঁ। মাত্র আট বছর বয়সেই বাবাকে হারান। স্কুলে পড়াকালীনই তিনি গল্প, কবিতা লিখতে শুরু করেন।

বিস্মৃত হতে হতেও বাঙালির মনে শেষ পর্যন্ত থেকেই যান কাজী নজরুল ইসলাম। কারণ শুধু তো রচনা নয়, বাংলা ভাষায় লেখনীর মাধ্যমে এক বিরাট জনগোষ্ঠীকে এক বাঁধনে বেঁধে রাখতে পেরেছেন তিনি। নজরুল বাংলা ভাষা সাহিত্য অনুরাগীদের কাছে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি কবিতা, সংগীত, উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, চলচ্চিত্রে নিজস্ব স্বাক্ষর রেখেছেন। ছিলেন সাংবাদিক, গায়ক এবং অভিনেতাও। সংগীতে তার অজস্র রাগ-রাগিনী অমরত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে আছে।
স্কুলের পড়া শেষ না করেই কাজী নজরুল ইসলাম ৪৯ নম্বর বাঙালি রেজিমেণ্টে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়ে মেসোপটেমিয়ায় যান ১৯১৭ সালে। সেখানে বাঙালি পল্টনের মুসলমান সেনাদের তদারকির কাজে এক জন পাঞ্জাবি মৌলবী যুক্ত ছিলেন। তাঁর মুখে হাফিজের কবিতা শুনেই মুগ্ধ নজরুল মৌলবী সাহেবের কাছে ফারসি শিখতে থাকেন।



এর পর মুজফফর আহমেদের সঙ্গে যৌথ ভাবে ‘নবযুগ’ পত্রিকার সম্পাদনা। তার পর ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার দায়িত্বে। সেখানেই প্রকাশিত হয় ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি। তার জন্যই তাঁকে কারারুদ্ধ করে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। ১৯২২ সালে ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যটিও প্রকাশিত হয়। প্রেসিডেন্সি জেলে কিছু দিন থাকার পর ১৯২৩ সালে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয় নজরুলের। প্রথমে আলিপুর সেন্ট্রাল জেল, তার পর হুগলি জেল হয়ে বহরমপুর ঠাঁই হয় তাঁর।
সেখানে আরও একটি মামলা হলে গোটা বহরমপুর তাঁর পাশে দাঁড়ান। হিন্দু-মুসলিম আইনজীবীরা মিলে মামলা লড়েন। জেলে থাকাকালীনই একাধিক কবিতা, নাটক লেখেন নজরুল। হালমোনিয়াম জোগাড় করে চলে সঙ্গীতচর্চা। তার অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও ‘জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত-জালিয়াৎ খেলছে জুয়া’ গানটি রক্ষা পায়। ১৯২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুক্তি পান নজরুল। বন্দি অবস্থায় কয়েদিদের উপর অকথ্য অত্যাচারের প্রতিবাদে অনশনও করেন।
নজরুলে ব্যক্তিগত জীবনও ছিল যন্ত্রণাময়। ১৯২৪ সালে প্রমীলা সেনগুপ্তের সঙ্গে বিয়ে হয়। দুই পুত্রসন্তানের অকালমৃত্যুতে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ধীরে ধীরে যা-ও বা স্বাভাবিক হলেন, ১৯৪০ সালে স্ত্রী পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন। ১৯৪২ সালে আক্রান্ত হলেন পিক্সরোগে আক্রান্ত হলেন, যাতে ক্রমশ তাঁর মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা চলে যায়।
কাজী নজরুল ইসলাম, বাঙালির বিদ্রোহী কবি একজনই।

জাতপাত, ধর্ম, এ সবের গণ্ডিতে কখনওই বাঁধা পড়েননি নজরুল। ৭৭ বছরের জীবনকালে মাত্র ২২-২৩ বছরই সৃষ্টি করতে পেরেছেন নজরুল। তাতেই বাঙালির মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। আজকের দিনে নজরুলগীতির জনপ্রিয়তা তেমন নেই বলে আক্ষেপ করতে শোনা যায় অনেককে। কিন্তু নজরুলের শ্যামাসঙ্গীত, কীর্তন, বৈষ্ণব পদাবলীর পাশাপাশি ইসলামি সঙ্গীত, মুর্শেদী গান আজও মুগ্ধ করে রেখেছে বহু মানুষকে।







