নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম আলোচিত নাম ববিতা সরকার। মন্ত্রী কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর বেনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। লড়াইয়ে জিতে নিজের যোগ্য পদ অর্জন করেছিলেন। কিন্তু কিছু সময় যেতেই ববিতার পদের দাবিদার হয়ে উঠে আসেন অনামিকা রায়। তাঁর অভিযোগ খতিয়ে দেখে অনামিকাকে চাকরির নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতেই উঠে এল অনন্তনাগের প্রসঙ্গ।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় শিলিগুড়ির অনামিকা রায়কে চাকরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও নিয়োগ না হওয়ায় আরও একবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন চাকরিপ্রার্থী অনামিকা। সোমবার সেই মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘মামলা অনন্তনাগে পাঠিয়ে দেব। উনি জঙ্গি নাকি চাকরি দিচ্ছেন না?’ এদিন আদালতে শুনানিপর্বে মধ্য শিক্ষা পর্ষদের তরফে আদালতে জানানো হয়, পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়নি। সেই কারণেই নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও চাকরিপ্রার্থীর দাবি, ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পর্ষদের কাছে পৌঁছে গেলেও অজানা কোনও কারণবশত নিয়োগপত্র তাঁর কাছে আসেনি।

অনামিকা রায় কেন এখনও চাকরি পাননি, তা জানতে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারেটের থেকে রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার মধ্যে রিপোর্ট এসে না পৌঁছালে পরবর্তীতে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, বিগত কয়েকদিন ধরেই জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে সেনা-জঙ্গির সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। শহীদ হয়েছেন তিন জন। এদিন মামলার শুনানিতে নিয়োগ না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়েই অনন্তনাগ প্রসঙ্গ টেনে আনেন বিচারপতি।

চাকরি হারানোর পর ফের একবার চাকরি ফেরত পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ববিতা সরকার। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বিস্তারিত মেধাতালিকা প্রকাশ করার দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। মামলাকারী ববিতা সরকারের দাবি ছিল, একাদশ-দ্বাদশের বিস্তারিত তথ্য সহ প্যানেল প্রকাশ পেলে কারা, কোথায়, কীভাবে চাকরি পেয়েছেন তা স্পষ্ট হবে। যদি প্রথম ২০ জনের মধ্যে কেউ যদি দুর্নীতির কারণে চাকরি পেয়ে থাকেন, তবে তাঁর পদ বাতিলের সম্ভাবনা থাকবে। সেক্ষেত্রে ববিতা আবারও চাকরি পেতে পারেন। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
ববিতার চাকরি গেলেও নিয়োগ হয়নি দাবিদার অনামিকার, আদালতে অনন্তনাগ প্রসঙ্গ আনলেন বিচারপতি




