মেডিক্যালে ভর্তি সংক্রান্ত মামলা নিয়ে বৃহস্পতিবার নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল কলকাতা হাই কোর্ট (Kolkata High Court)। আগেই এই মামলার তদন্তভার সিবিআই-কে (CBI) দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Ganguly)। এরপর সৌমেন সেন এবং উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগতাদেশ দেয়। শেষমেশ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিলেন, মেডিক্যালে ভর্তি দুর্নীতি মামলার তদন্ত করবে সিবিআই-ই।
আরও পড়ুন: লাগাতার মমতাকে অপমান, বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে মিছিলের ডাক মহিলা তৃণমূলের
মেডিক্যালে সংরক্ষিত আসনে ভর্তি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে (Kolkata High Court) মামলা করেন এক ব্যক্তি। ভুয়ো উপজাতি (এসটি) শংসাপত্র ব্যবহার করে মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছেন অনেকে এমনই ছিল অভিযোগ। মোট ৫০ জন রয়েছেন আতশকাচের তলায়। এমতাবস্থায় এই মামলার তদন্তভার রাজ্য পুলিশের থেকে সরিয়ে সিবিআই-কে অর্পণ করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Ganguly)।

কিন্তু, পাল্টা রাজ্যের তরফে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলে সৌমেন সেন এবং উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের (Justice Abhijit Ganguly) নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগতাদেশ দেয়। মেডিক্যালে ভর্তি দুর্নীতি মামলা নিয়ে এফআইআর করতে বলেছিল কলকাতা হাই কোর্ট (Kolkata High Court)। সেই ভিত্তিতে একটি এফআইআর করে আলিপুর আদালতে দেয় সিবিআইয়ের (CBI) তদন্তকারী অফিসার। যদিও সেই এফআইআর বাতিল হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীদের একাংশ।

ডিভিশন বেঞ্চ স্থগিতাদেশ দিলেও কীভাবে সিবিআই-কেই (CBI) তদন্তভার দিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Ganguly)? এই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, “সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের কপি ছাড়া কী ভাবে ডিভিশন বেঞ্চ স্থগিতাদেশের নির্দেশ দিল? এর আগে এমন ঘটনা হাই কোর্টে ঘটেছে কি?’’ পাল্টা ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, তাঁদের হাতে ক্ষমতা কিছুটা হলেও বেশি তাই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিতেই পারে।
হাই কোর্টে ডামাডোল, মেডিক্যাল দুর্নীতির তদন্ত করবে CBI-ই, সাফ জানালেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Ganguly) অবশ্য এই যুক্তি মানতে নারাজ। তিনি সৌমেন সেন এবং উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চকে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগও করেছেন। সিবিআই-কে (CBI) তদন্তভার দিয়ে আগামী দু’মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। এখন মেডিক্যাল দুর্নীতির তদন্ত কোন দিকে এগোয় সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।



