নজরবন্দি ব্যুরো: একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলকে কেন্দ্র করে। এখন নতুন বিতর্ক, হস্টেলে নাকি চলে তোলাবাজি। নতুন আবাসিকদের থেকে টাকা তুলতেন সিনিয়ররা! তবে, তোলাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে সিনিয়রদের একাংশের তরফে।


র্যাগিং যে যাদবপুর হস্টেলে হত, তা স্বীকার করেছেন অনেক পড়ুয়াই। আর এ তো সাধারণ ইয়ার্কিচ্ছলে র্যাগিং নয়। একেবারে চরম পর্যায়ের র্যাগিং। নগ্ন করাটা যেমন একটাই প্রথায় পরিণত হয়েছিল, তেমনই কুরুচিকর প্রশ্ন করা হত নবাগতদের। এখন জানা যাচ্ছে, নতুন আবাসিকদের নাকি টাকা দিতে হত সিনিয়রদের। এমনকি পরিবারের আর্থিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করত সিনিয়ররা। সচ্ছল পরিবারের আবাসিকদের কাছ থেকে নেওয়া হত মোটা টাকা, আবার দুঃস্থ ঘরের ছেলেদের থেকে কিছুটা কম টাকা নেওয়া হত। তাঁদের দিয়ে ফাইফরমাস বেশি করানো হত। আর এই টাকা নিয়ে কী করতেন সিনিয়র বা প্রাক্তনীরা? উত্তরটা খুবই সহজ, মোচ্ছব, সংক্ষেপে মদ্যপান!

যদিও সিনিয়র আবাসিকদের তরফে এই তোলাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, যারা অতিথি হিসাবে হস্টেলে থাকতেন তাঁদের থেকে খাওয়াদাওয়া বাবদ ১,০০০ টাকা করে নেওয়া হত। থাকার জন্য কোনও টাকা নেওয়া হত না বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ক্রমশই জোরালো হচ্ছে র্যাগিং তত্ত্ব। পুলিশ কার্যত নিশ্চিত যে, র্যাগিং করার ফলেই নদীয়ার বগুলা গ্রামের সেই নিষ্পাপ ছেলেটির মৃত্যু হয়েছিল। পার হয়েছে এক সপ্তাহ। এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।



এখনও পর্যন্ত যে ১৩ জন ছাত্র গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সৌরভ চৌধুরী, নাসিম আখতার, হিমাংশু কর্মকার ও সপ্তক কামিল্যা, পড়ুয়াদের মধ্যে রয়েছেন দীপশেখর দত্ত, মনোতোষ ঘোষ, অসিত সর্দার, সুমন নস্কর, মহম্মদ আরিফ , আসিফ আফজল আনসারি, অঙ্কন সরকার, সত্যব্রত রায় এবং জয়দীপ ঘোষ।
নতুন আবাসিকদের থেকে টাকা তুলতেন সিনিয়ররা? বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না যাদবপুরের!










