নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুরকাণ্ডে টালমাটাল পরিস্থিতি। প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে র্যাগিং তত্ত্ব উঠে আসতেই কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বেহাল অবস্থা বলেও ধারণা জানিয়েছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। ছাত্রমৃত্যু নিয়ে যখন চারিদিকে এত বিতর্ক, সেই পরিস্থিতিতেই নতুন উপাচার্য নিয়োগ করলেন রাজ্যপাল। দায়িত্বে এসেই কী কী ব্যবস্থা নেবেন অস্থায়ী উপাচার্য বুদ্ধদেব সাহু, সেইসদিকেই নজর রয়েছে।
আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরে অগ্নিমূল্য হতে পারে পেঁয়াজ! বিশেষ ব্যবস্থা নিল কেন্দ্র
গত শনিবার (১৯ আগস্ট) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাহুকে অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। নতুন দায়িত্ব পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয় এবং হস্টেল ক্যাম্পাসে কী কী ব্যবস্থা নেবেন তা পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, “কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে দেখতে হবে। সব জায়গাতেই উন্নতির পরিসর থাকে। আলাদা করে সিসিটিভি নিয়ে ভেবে লাভ নেই। সিসিটিভি তো প্রযুক্তি মাত্র। পরিবর্তে আরও অনেক ব্যবস্থা আছে। দেখতে হবে কোনটা করলে আমাদের সুস্থ মানের চিন্তাভাবনা ব্যাহত হবে না।” তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে যে প্রাধান্য দেওয়া হবে একথাও স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, অকারণে বদনাম করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি না করার আবেদন করেছেন নতুন উপাচার্য।

চলতি মাসের শুরুতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের বাংলা বিভাগের পড়ুয়ার হস্টেলের বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়। পরিবারের তরফে র্যাগিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে প্রথমেই গ্রেফতার করে সৌরভ চৌধুরীকে, যিনি যাদবপুরের প্রাক্তনী। এই ঘটনার পরই বহু ছাত্র র্যাগিং নিয়ে মুখ খুলেছে। ছাত্র ও প্রাক্তনী মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আভ্যন্তরীণ কমিটি তদন্ত করে। তারাও কার্যত র্যাগিংয়ের তত্ত্বকেই সিলমোহর দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ মে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন সুরঞ্জন দাস। পরবর্তীকালে ওই পদে অস্থায়ী উপাচার্য হিসাবে যাদবপুরেরই ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অমিতাভ দত্তকে নিয়োগ করেছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু গত ৪ আগস্ট তিনিও ইস্তফা দেন। এরপর আর নতুন করে উপাচার্য নিয়োগ করা হয়নি।
‘অকারণে বদনাম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি করবেন না, ছাত্রমৃত্যুর বিতর্কের মাঝেই আবেদন নতুন উপাচার্যের




