নজরবন্দি ব্যুরোঃ দু’বছর আগে করোনার প্রকোপে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বাধ্য হয়ে লকডাউন কার্যকর করেছিল। আমাদের দেশ ভারত এর অন্যথা করেনি।অতিমারির ধাক্কায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল দেশের অর্থনীতির চাকা। দীর্ঘ দুই বছর পর অতি মাড়ির প্রকপ বেশ খানিকটা কমে গিয়েছে। আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি।
আরও পড়ুনঃ ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত! অল্ট নিউজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক জুবের গ্রেফতার
করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ফের গতি ফিরেছে অর্থনীতিতে । কিন্তু প্রশ্ন হল কাজের বাজারে তার প্রতিফলন দেখা দিয়েছে কি ? পরিসংখ্যান বলছে এর উত্তর না । সিএমআইই-র পরিসংখ্যান দেখলে প্রমান হয় সে কথা। গত রবিবার শেষ হওয়া সপ্তাহে সারা দেশে বেকারত্ব ফের মাথা তুলেছে ৮.৪৯ শতাংশে। যেখানে আগের সপ্তাহে তা ৭.১৪% ছিল। শহরে তা ৬.৭১% থেকে চড়েছে ৭.৭৬ শতাংশে, গ্রামে ৭.৩৪% থেকে ৮.৮২%।

ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকারত্ব এর চেয়ে বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের অনেকের বক্তব্য, অতিমারির ঢেউ মাথা নামানোর পর সংস্থাগুলি লোক নিয়োগ বাড়াবে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। গত বাজেটে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের অন্যতম উৎস ১০০ দিনের কাজে বরাদ্দ কমিয়েছে কেন্দ্র। তাতেও কাজ কমেছে। বণিকসভা ভারত চেম্বার অব কমার্সের ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট সীতারাম শর্মার বক্তব্য, উঁচু বেকারত্বের জন্য কেন্দ্র ও বেসরকারি ক্ষেত্র, দু’পক্ষকেই দায় আছে।

তিনি বলেন, ‘‘সুদ বৃদ্ধির ফলে শিল্পের মূলধন জোগাড়ের খরচ বেড়েছে। তারা না করছে নতুন প্রকল্পে লগ্নি, না করছে পুরনো প্রকল্প সম্প্রসারণ। অদূর ভবিষ্যতেও চাহিদা বৃদ্ধির আশা দেখছে না। সে কারণে নিয়োগও কার্যত বন্ধ।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘সরকারি উদাসীনতাও এইঅবস্থার কারণ। আগে প্রতিরক্ষা, রেলও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি ছিল কাজের অন্যতম জায়গা।

করোনার পর বাড়েনি কাজের সুযোগ, থমকে গিয়েছে বহু নিয়োগ, বাড়ছে বেকারত্ব
তা এখন কমেছে। বহু সংস্থাকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।’’ আইআইএম কলকাতার প্রাক্তন অধ্যাপক অনুপ সিন্হা বলেন, ‘‘অতিমারিতে মানবসম্পদ কমিয়ে কাজ চালানোর পথ খুঁজছিল বহু সংস্থা। শ্রমিকের একাংশের বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। ফলে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। এমনকি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বদলে কম সময়ের নিয়োগ বেড়েছে।’’



