নজরবন্দি ব্যুরোঃ মতবিরোধের জট এখনও কাটেনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথাও হয়নি। কিন্তু তাঁর আগেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। আসানসোলে দলের শ্রমিক সংগঠনের মঞ্চ থেকে তিনি মন্তব্য করেন, এটিই হয়তো জেলা সভাপতি হিসেবে তাঁর শেষ বক্তব্য। সেইসঙ্গে তিনি বলেন,” আমাকে দল থেকে বলা হয়েছে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেন কোনো কাজে যুক্ত না হতে।
আরও পড়ুনঃ সীমান্তে সামরিক পরিকাঠামো নির্মাণ করছে চিন!
জেনে রাখুন পদ ছাড়তে আমার এক মিনিট সময় লাগবে’। এরপরই তিনি বলেন দলের পক্ষ থেকে মানুষের কাছে তাঁকে প্রতিশ্রুতি এবং দায়বদ্ধতা পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না । কিন্তু তাঁকে আর ভয় দেখিয়ে রাখা যাবে না। তাঁর প্রকাশ্য ঘোষণা, ‘‘এক সময়ে তো সিদ্ধান্ত নিতেই হবে! আর ভয় দেখিয়ে রাখা যাবে না।
সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বললে চলে যাব। কিন্তু মানুষের সঙ্গেই থাকব। মানুষের বাইরে তো আর থাকতে পারব না!’ আসানসোলের গ্রাফাইট কারখানার মেন গেটের সামনে বুধবার তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সভা ছিল। সেখানেই জিতেন্দ্র বলেন, ‘‘আমি মনে করছি, দলের জেলা সভাপতি হিসেবে হয়তো এটাই আমার শেষ বক্তব্য। কেননা কাল (মঙ্গলবার) রাতে কলকাতা থেকে আমাকে ১৮ তারিখ (শুক্রবার। যেদিন তাঁর সঙ্গে নেত্রীর বৈঠকের কথা) পর্যন্ত দলীয় সভা বা শ্রমিক সংগঠনের বৈঠকে না যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’ নিষেধ সত্ত্বেও অবশ্য দলের শ্রমিক সমাবেশে এসেছিলেন জিতেন্দ্র।
এবং সে কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দল কোনও ব্যবস্থা নিলে তিনি তৈরি বলেও জানান জিতেন্দ্র। তিনি বলেন, ‘‘বিকেলের মধ্যেই যদি জেলা সভাপতির পদ ছাড়তে হয়, তবে আমার দু’মিনিট সময়ও লাগবে না। আমি ছেড়ে দেব!’’ তৃণমূলের বিধায়ক হয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে কেন্দ্রীয় অনুদান থেকে আসানসোলকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তোলেন জিতেন্দ্র। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে ওই মর্মে জিতেন্দ্র চিঠি পাঠানোর পর সোমবার থেকেই চাপানউতোর শুরু হয়। সমস্যা মেটাতে শীর্ষ নেতৃত্ব মঙ্গলবার কলকাতায় তৃনমূলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে জিতেন্দ্রকে বৈঠকে যোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক হয়নি।
জিতেন্দ্র প্রথমে রাজি হলেও পরে বেঁকে বসেন। জানা যায়, একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার জিতেন্দ্র জানিয়েছিলেন, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর যা কথা হয়েছে, তাতে উত্তরবঙ্গ সফর সেরে মমতা বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফেরার পর ১৮ তারিখ অর্থাৎ শুক্রবার তাঁকে ডাকা হতে পারে। কিন্তু সেই ডাকের আগেই বুধবার দলের ওপর ক্ষোভ উগড়ে দেন জিতেন্দ্র।



