‘রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত কোথায়?’ চার মাস পর বিস্ফোরক পোস্ট জিতু কামালের, বিতর্কে টলিপাড়া

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর চার মাস পর তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিনেতা জিতু কামাল। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। সেই নিয়েই ফের সরব হলেন অভিনেতা জিতু কামাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তদন্তের অগ্রগতি কোথায়? একইসঙ্গে প্রতিবাদে সামিল হওয়া অনেকের নীরবতা এবং আত্মপ্রচারের রাজনীতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

গত ২৯ মার্চ, দিঘা সংলগ্ন তালসারি সমুদ্র সৈকতে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই ঘটনার পর শুটিং সেটের নিরাপত্তা, প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা এবং শিল্পীদের সুরক্ষা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্তভার রয়েছে সিআইডি (CID)-র হাতে।

চার মাস পর ফের প্রশ্ন জিতুর

রাহুলের মৃত্যুর চার মাস পূর্ণ হওয়ার দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করেন জিতু কামাল। সেখানে তিনি লেখেন,

“আজ আরও একটি ২৯ পেরিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত কোথায়? কোথায় সেই তদন্ত চাওয়ার মুখগুলো? কোথায় সেই তাগিদ? কোথায় সেই টিপ্পনি যে বেঁচে থাকা মানুষ কখন আন্দোলন করবে আর কখন চুপ করে থাকবে? কী ভাবে চলে গেল একটি প্রাণ? সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অমীমাংসিত। আমরা শুধু মানুষে মানুষে বিভক্ত হলাম।”

এই পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবেই তদন্তের ধীরগতির প্রশ্ন তুলেছেন এবং ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

‘মাগো, বাবাগো, পিসিগো’ মন্তব্যে কী বললেন?

পোস্টের আরেকটি অংশে জিতু লেখেন,

“মাগো, বাবাগো, পিসিগো—এ সব আবেগের ডাকের আড়ালে কোথাও যেন অর্থের লোভ আর আত্মপ্রচারের আকাঙ্ক্ষাই বড় হয়ে উঠল। সেই দৌড়ে আমরা হারিয়ে ফেললাম মানবিকতা, হারিয়ে ফেললাম নিজের জীবনকেও।”

তিনি আরও বলেন, একদিন সবাই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন, কিন্তু যদি সত্য, ন্যায় এবং মানুষের জীবনের মূল্য প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে সমাজের কাছে সেটাই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হয়ে থাকবে।

তবে এই মন্তব্যে তিনি কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য কাদের উদ্দেশে, সে বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনও ব্যাখ্যা দেননি।

আগেও তুলেছিলেন নিরাপত্তার প্রশ্ন

রাহুলের মৃত্যুর পর থেকেই শুটিং সেটের নিরাপত্তা নিয়ে সরব ছিলেন জিতু কামাল। তিনি দাবি করেছিলেন, নিজেরও একটি ছবির শুটিংয়ে চরম অব্যবস্থা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সে বিষয়ে শিল্পী সংগঠনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল পাননি বলেও অভিযোগ করেছিলেন।

জিতুর মতে, শিল্পীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগগুলি সময়মতো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলে হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানো যেত।

তদন্তে নজর টলিপাড়ার

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর টলিউডে শিল্পীদের নিরাপত্তা, শুটিং সেটে সুরক্ষা বিধি এবং প্রযোজনা সংস্থাগুলির দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। চার মাস পরও তদন্ত শেষ না হওয়ায় সেই প্রশ্নই আবার সামনে এনে দিলেন জিতু কামাল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন