নজরবন্দি ব্যুরোঃ দীনেশের জায়গায় রাজ্যসভার প্রার্থী জহর সরকার, তৃণমূলের তরফে আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে এই কথা। ৪২ বছর ধরে পাবলিক সার্ভিসে নিয়োজিত ছিলেন তিনি, আর এবার রাজ্যসভায় সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগাবে মমতা সরকার।
আরও পড়ুনঃ ভোট চতুর্থীর শীতলকুচি কান্ড, ফের ৬ CRPF জওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে CID
দীনেশ ত্রিবেদি তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় বসেছিলেন ২০২০ সালে, স্বাভাবিক ভাবেই সেই পদের মেয়াদ ২০২৬ পর্যন্ত। তবে তৃণমূলে থেকে দমবন্ধ হয়ে আসার কারণে ভোটের আগেই দলত্যাগ করেন বর্ষীয়াণ নেতা। ছেড়ে দেন রাজ্যসভার সাংসদ পদও।
তারপর থেকেই একপ্রকার জল্পনা ছিল ওই পদে বসবেন কে? দিন কয়েক আগে রাজ্যসভার বকেয়া পদের উপনির্বাচনের বকেয়া ভোটের দিন জানিয়ে নোটিস দিয়েছে কমিশন। তার পর থেকেই জোরালো হচ্ছিল চর্চা। কে বসবেন এই পদে।
মুকুল-যশবন্ত নন, দীনেশের জায়গায় রাজ্যসভার প্রার্থী জহর সরকার।

গুঞ্জন ছিল মাস্টারস্ট্রোকে ওই পদে রায়সাহেব কে বসাতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তার প্রেক্ষিতে যুক্তিও ছিল একাধিক। বিধানসভায় তৃণমূলের মুকুলের বিজেপি বিধায়কের পদ নিয়ে যে জলঘোলা শুরু করেছে গেরুয়া শিবির, তাতে দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে সমান্তরালে বেশিদিন চলা চিন্তার, তার থেকে মুকুলকে দিল্লিতে পাঠিয়ে জাতীয় রাজনীতির নয়া ছক কষবেন মুকুল-মমতা।
তবে আপাতত সেসব জল্পনা ইতি ঘটেছে। রাজ্যসভার পদে তৃণমূলের তরফে নির্বাচিত করা হয়েছে প্রাক্তন আমলা জহর সরকারকে। দলের তরফে ট্যুইট করে জানানো হয়েছে, সংসদের উচ্চকক্ষে জহর সরকারকে মনোনীত করতে পেরে আমরা আনন্দিত।। আগামী ৯ তারিখে ওই আসনে হবে নির্বাচন, এবং ওদিনেই ফলাফল জানা যাবে।

জহর সরকার অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার, ৪২ বছরের বেশি সমসয় যুক্ত থেকেছেন জন পরিষেবার কাজে। প্রাক্তন আমলার সঙ্গে বরাবর সুসম্পর্ক ঘাসফুল শিবিরের। আলাপন ইস্যুতেও কেন্দ্রের বিপক্ষে গিয়ে রাজ্যের পক্ষে সুর চড়িয়েছিলেন তিনি। রাজ্য এবং কেন্দ্রের একাধিক দায়িত্ব সামলানো জহরকে এবার দিল্লি পাঠাচ্ছেন মমতা।

সূত্রের খবর মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফোন করেছিলেন তাঁকে, মনোনয়নের কথা জানালে অল্প ভেবেই মমতার কথায় সম্মতি দেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের সাইট থেকে ট্যুইট ছাড়াও, ঘটনা প্রসঙ্গে ট্যুইট করেছেন কুণাল ঘোষও। তিনি লিখেছেন, ‘রাজ্যসভায় যাচ্ছেন জহর সরকার। একজন কৃতী ছাত্র, দেশের সর্বোচ্চ মহলে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করা অন্যতম সেরা ও অভিজ্ঞ আমলা, একজন রুচিশীল, অসাধারণ জ্ঞানী, সুপটু লেখক ও বাগ্মীকে মনোনয়ন দিল তৃণমূল। দিল্লিতে স্পষ্ট হচ্ছে আগামী বিকল্পের পদধ্বনি।’



