নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিচারপতিকে আক্রমণ করে নিজের সীমা অতিক্রম করছেন সাংসদ। শনিবার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রবিবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। অভিষেক মাত্র ছাড়িয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যসচিব এইচ কে দ্বিবেদীকে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন রাজ্যপাল।
নাম না করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বলেন, প্রকাশ্য জনসভা থেকে এক জন সাংসদ এক জন বিচারপতিকে আক্রমণ করেছেন। এসএসসি দুর্নীতি মামলায় যে বিচারপতি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে। সাংসদের এ হেন মন্তব্য নিন্দনীয়। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সাংসদ হিসেবে নিজের সীমা অতিক্রম করেছেন উনি। পাশপাশি রাজ্যের মুখ্যসচিব এইচ কে দ্বিবেদীকে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন রাজ্যপাল।

শনিবার হলদিয়ার জনসভা থেকে অভিষেক বলেন, আমার বলতে লজ্জা লাগে। কিন্তু বিচারব্যবস্থায় এক শতাংশ এমন আছেন, তল্পি বাহকের কাজ করছেন। কিছু হলেই সিবিআই দিয়ে দিচ্ছেন। আপনার যদি মনে হয়, এই সত্যি কথা বলার জন্য ব্যবস্থা নেবেন, ক্যামেরার সামনে দু’হাজার বার এই কথা বলব। অভিষেক আরও বলেন, খুনের মামলার তদন্ত আটকে দিচ্ছে। শুনেছেন কোনও দিন! আদালত চাইলে নিরাপত্তা দিতে পারে। আদালতের অধিকার আছে। কিন্তু খুনের মামলার তদন্ত স্থগিত করে দিতে পারেন না আপনি।

অভিষেকের এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। সমালোচনায় সরব হন বিরোধীরা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন, বালখিল্য মন্তব্য নিয়ে কিছু বলার নেই আমরা। আমরা গণতন্ত্র, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। ভারতে সবকিছু সংবিধানকে সামনে রেখে পরিচালিত হয় আইন-আদালত সবকিছু। আমরা জনপ্রতিনিধির এবং ভারতের নাগরিকরা তা মেনে চলতে বাধ্য। সংবিধানই গণতন্ত্র বজায় রাখার জন্য আইন, প্রশাসন এবং বিচারব্যবস্থার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সেই বিচার ব্যবস্থাকে আক্রমণ করা ঘৃণ্য কাজ বলে মনে করি আমি।
অভিষেক মাত্রা ছাড়িয়েছেন, এবার সরব রাজ্যপাল

সিপি(আই)এমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, অভিষেক এবং তার স্ত্রী কয়লাপাচার মামলায় আদালতের কাছ থেকে রক্ষাকবচ না পেয়েই এই কথা বলছেন। বিদেশে যে বিপুল অর্থ রয়েছে তা ধরা পড়ে যেতে পারেন ভেবেই এই মন্তব্য করছেন।



