নজরবন্দি ব্যুরোঃ তৃণমূল কর্মী খুনের প্রতিবাদে উত্তপ্ত জগদ্দল। এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি ।ফের বোমাবাজি ও খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনা। এবার জগদ্দলে এক তৃণমূল কর্মীকে চপার দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দলের বলি হয়েছেন ওই যুবক। যদিও ঘটনায় বিজেপির যোগ রয়েছে বলেই দাবি তৃণমূলের। অভিযোগ অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির। তাদের পাল্টা অভিযোগ, শাসক দলের গোষ্ঠীকোন্দলের ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুনঃ জম্মু হাইওয়েতে সেনা জঙ্গি সংঘর্ষ, নিকেশ ৪ জঙ্গি ও আহত দুই সেনাকর্মী
জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম আকাশ প্রসাদ। বয়স ২৪। স্থানীয় টাউন প্রেসিডেন্ট সোমনাথ সোমের অনুগামী ছিলেন তিনি। বুধবার গভীর রাতে জগদ্দলের পালঘাট রোডে আকাশকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। এরপর চপার দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় তাঁকে। ব্যাপক বোমাবাজিও করা হয় এলাকায়। এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে যায় জগদ্দল থানার পুলিশ। আকাশের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। এলাকায় যাতে উত্তেজনা না ছড়ায় সেই কারণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। কাঠগড়ায় তোলে শাসকদলকে। এই ঘটনার পরে অবশ্য পরিবার ও তৃণমূলের তরফে দু’রকমের অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, সোমনাথ সোমের অনুগামী হওয়ায় অশোক সাউ নামের তৃণমূলের এক দুষ্কৃতী ও তার দলবল ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে আকাশকে। তারপরে বোমাবাজি করতে করতে এলাকা ছাড়ে দুষ্কৃতীরা।
তবে তৃণমূলের স্থানীয় টাউন প্রেসিডেন্ট সোমনাথ সোমের বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কেউ যুক্ত নয়। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আকাশকে খুন করেছে। অন্যদিকে, শাসকদলের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। ব্যারাকপুরের সংসদ তথা বিজেপি নেতা অর্জুন সিং জানিয়েছেন, ‘আকাশ প্রসাদ একজন দুষ্কৃতী বলেই জানতাম। বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল।
কিন্তু তৃণমূল কর্মী বলে জানতাম না। এই ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই। সে কথা আকাশের পরিবারই বলেছেন। তৃণমূল তাদের গোষ্ঠীকোন্দল বিজেপির উপর চাপানোর চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, জগদ্দল থানার পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পরে গতকাল রাত থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে পৌঁছয় জগদ্দল থানার পুলিশ। খুনিদের গ্রেফতারির দাবি তোলেন স্থানীয়রা।
তৃণমূল কর্মী খুনের প্রতিবাদে উত্তপ্ত জগদ্দল। এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি ।ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলছে তারা। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।



