নজরবন্দি ব্যুরো: শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হল ইসলামপুরের এক প্রাথমিক শিক্ষকের। মাদারিপুর এলাকায় মোটরবাইকে যাওয়ার সময় পথ আটকে তাঁকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি ৪৫ বছরের নজরুল ইসলামের। কেন তাঁকে নিশানা করা হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রতিদিনের মতো শনিবারও ইসলামপুর শহরের আমবাগান মোড়ের বাড়ি থেকে বাইকে চেপে স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন নজরুল। তিনি রামগঞ্জের রাজাভিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মাদারিপুর এলাকায় পৌঁছনোর পর কয়েক জন তাঁর পথ আটকায়। এরপর খুব কাছ থেকে তাঁর পেটের ডান দিকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ। গুলির শব্দে আশপাশের মানুষজন ছুটে এলে ততক্ষণে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন শিক্ষক। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নজরুলের স্ত্রী রোকসানা খাতুনের দাবি, ঘটনার পর স্বামী নিজেও তাঁকে ফোন করেছিলেন।
ফোনে নজরুল জানিয়েছিলেন, তাঁকে গুলি করা হয়েছে। তবে কারা হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে স্ত্রীকে কিছু বলতে পারেননি তিনি। এরপর স্থানীয়দের সাহায্যে তাঁকে দ্রুত ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। সেখানেই চিকিৎসকেরা নজরুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে তদন্তে নামে ইসলামপুর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি হামলার সম্ভাব্য কারণ এবং দুষ্কৃতীদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মাদারিপুর এলাকার আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। হামলাকারীরা কোন দিক থেকে এসেছিল এবং ঘটনার পর কোন পথে পালিয়েছে, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
নিহত শিক্ষকের পরিবারের দাবি, নজরুল ইসলামের সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। তাঁর মেয়ে নয়না ইসলামের কথায়, তাঁর বাবা অত্যন্ত সৎ মানুষ ছিলেন। এমন হামলার কারণ কী হতে পারে, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।
পুলিশও আপাতত খুনের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা, পুরনো কোনও বিরোধ অথবা অন্য কোনও কারণ—সব দিকই তদন্তে রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
স্কুলে যাওয়ার পথে একজন শিক্ষকের উপর প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কারা এই হামলার নেপথ্যে এবং কেন নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে সেই রহস্যের কিনারা করার চেষ্টা চলছে।



