শনিবার সকালে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক প্রধান শিক্ষকের। মাদারিপুর এলাকায় মোটরবাইকে করে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারান নজরুল ইসলাম (Nazrul Islam), বয়স ৫৫। তিনি রামগঞ্জের রাজাভিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রতিদিনের মতো এ দিনও সকালে মোটরবাইক নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন নজরুল। মাদারিপুর এলাকায় পৌঁছতেই কয়েক জন দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়েন তিনি। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ইসলামপুর থানায় খবর দেন।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর জখম অবস্থায় নজরুলকে উদ্ধার করে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। এরপর শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে সেখানে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, নিহত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সূত্রের দাবি, তিনি তৃণমূলের শিক্ষা সেলের নেতা ছিলেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে এই খুনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা মোটরবাইকে করে এসেছিল। হামলার পর দ্রুত বাইকে চেপেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা। তবে কত জন দুষ্কৃতী এই হামলায় জড়িত ছিল এবং তাদের পরিচয় কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় এক দোকানদার মহম্মদ ইসমাইল জানান, আচমকাই গুলির মতো শব্দ শুনে তিনি দোকান থেকে বেরিয়ে আসেন। তখন দেখেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নজরুল মোটরবাইকের উপর রয়েছেন। তাঁর কথায়, দুই আততায়ী বাইকে করে পালিয়ে যাচ্ছিল। গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই নজরুল তাঁদের পিছু নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুটা যাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইক-সহ রাস্তায় পড়ে যান।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার স্কুল ছুটির পর চোপড়ার সোনাপুরে নিজের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল নজরুলের। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় এই হামলা। আচমকা এই ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এখনও খুনের সঠিক কারণ স্পষ্ট নয়। পুরনো কোনও শত্রুতা, ব্যক্তিগত বিবাদ, রাজনৈতিক যোগ নাকি অন্য কোনও কারণ—সব দিকই খতিয়ে দেখছে ইসলামপুর থানার পুলিশ। ঘটনার পর এলাকায় তল্লাশি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি হামলাকারীদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্কুলে যাওয়ার পথে একজন প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে খুনের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও। তদন্তকারীরা হামলার আগে ও পরের গতিবিধি খতিয়ে দেখছেন। আততায়ী কারা এবং কী উদ্দেশ্যে নজরুলকে টার্গেট করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্ত এগোচ্ছে।



