পুজোর মুখে উত্তর সিকিমে মরসুমের প্রথম তুষারপাত, বরফে ঢাকল কালা পাথর-ইয়ুমথাং

বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর সিকিমের একাধিক উচ্চ পার্বত্য এলাকায় মরসুমের প্রথম তুষারপাত হয়েছে। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টিতে পশ্চিম সিকিমের কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পুজোর আগে পর্যটকদের জন্য সিকিম থেকে এল শীতের আগাম বার্তা। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর সিকিমের একাধিক উচ্চ পার্বত্য এলাকায় মরসুমের প্রথম তুষারপাত হয়েছে। কালা পাথর, থাঙ্গু ভ্যালি, মুগুথাং, ইয়ুমথাং উপত্যকা এবং জিরো পয়েন্টে বরফ পড়ার খবর মিলেছে।

গত কয়েক দিন ধরে সিকিম ও উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি চলছে। তার মধ্যেই উচ্চ পার্বত্য এলাকায় তুষারপাত শুরু হওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। পুজোর ছুটিতে সিকিমমুখী পর্যটনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় সূত্রে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালে থাঙ্গু ভ্যালি থেকে কালা পাথর, মুগুথাং এবং গুরুদোংমার লেকের দিকে যাওয়ার পথে তুষারপাত হয়েছে। ইয়ুমথাং উপত্যকা ও জিরো পয়েন্টেও বরফ পড়েছে। গ্যাংটক থেকে ছাঙ্গুর পথে আইটিবিপি শিবির সংলগ্ন এলাকাতেও তুষারপাতের খবর পাওয়া গিয়েছে।

উচ্চতার কারণে সিকিমের এই অঞ্চলগুলিতে তুষারপাত অস্বাভাবিক নয়। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, থাঙ্গু ভ্যালি প্রায় ১৩ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এবং শীতের মাসগুলিতে এই এলাকা নিয়মিত বরফে ঢাকা থাকে।

তবে এবারের বিশেষত্ব হল, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেই তুষারের দেখা মিলল। ফলে দুর্গাপুজোর মরসুম শুরুর আগেই উত্তর সিকিমের পাহাড়ি গন্তব্যগুলিতে শীতের আবহ তৈরি হয়েছে। বরফে ঢাকা পাহাড় দেখতে আগ্রহী পর্যটকদের কাছে এই তুষারপাত স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, তুষারপাতের পাশাপাশি সিকিমের নিচু ও মধ্য উচ্চতার এলাকায় বৃষ্টির পরিস্থিতিও অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (India Meteorological Department) গ্যাংটক কেন্দ্রের ২৪ সেপ্টেম্বরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্যাংটকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩০.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গ্যালশিংয়ে ৫৬ মিলিমিটার এবং মাঙ্গানে ৪১.৪ মিলিমিটার বৃষ্টির তথ্যও রয়েছে।

এই টানা বৃষ্টির কারণে সিকিমের কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের সমস্যাও রয়েছে। পশ্চিম সিকিমের রিম্বি-সিংলিতাম এলাকায় সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ভূমিধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সক্রিয় ধসের এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিকিম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (SSDMA)।

রিম্বি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়েও ভূমিধসের কারণে রাস্তা ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ১৯ সেপ্টেম্বরের সরকারি রিপোর্টে ইয়ুকসোম এলাকায় অতিভারী বৃষ্টির পর মাংতাবং গ্রামে বড় ধসের কথা জানানো হয়েছে; ১২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং কয়েকটি বাড়ি ক্ষতির মুখে পড়ে।

বৃহস্পতিবারও ভারী বৃষ্টির পর রিম্বি-সহ সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ধস ও মাটির স্রোতের খবর সামনে এসেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, রিম্বি এলাকায় কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে এসেছে এবং আশপাশের বাড়িঘর ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফলে পুজোর আগে সিকিমের ছবি এখন একেবারেই দুই রকম—উচ্চ পার্বত্য এলাকায় তুষারের সাদা চাদর, আর অন্যদিকে টানা বৃষ্টির জেরে কিছু এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা। পর্যটকদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার আগে রাস্তার পরিস্থিতি ও স্থানীয় প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশিকা জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন