২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে জোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করল আইএসএফ, তবে এখনও পুরো ছবিটা স্পষ্ট নয়। ২৯টি আসনে সমঝোতা হলেও আরও চারটি আসন নিয়ে চলছে দর কষাকষি—ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
হুগলির ফুরফুরা শরিফে সাংবাদিক বৈঠকে আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি জানান, বামেদের সঙ্গে তাঁদের ২৯টি আসনে সমঝোতা হয়েছে। যদিও প্রথমে ৭৩টি আসনের দাবি জানানো হয়েছিল, তাতে সাড়া মেলেনি। পরবর্তীতে আলোচনার ভিত্তিতে এই চুক্তি হয়েছে।
এই ২৯টি আসনের মধ্যে রয়েছে খানাকুল, হরিপাল, মোথাবাড়ি, সুজাপুর, সামশেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ, হরিহরপাড়া, নাকাশিপাড়া, অশোকনগর, মধ্যমগ্রাম, আলমডাঙা, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, বসিরহাট উত্তর, বাদুড়িয়া, বাসন্তী, কুলপি, মল্লিকবাজার, ক্যানিং পূর্ব ও পশ্চিম, মগরাহাট, ভাঙড়, উলুবেড়িয়া পূর্ব, জগৎবল্লভপুর, মহিষাদল, শালবনি, বারাবনি ও বোলপুর।
তবে নন্দীগ্রাম, পাঁশকুড়া পশ্চিম, ভগবানগোলা এবং মুরারই—এই চারটি আসন নিয়েই এখনো জট কাটেনি। আইএসএফ এই কেন্দ্রগুলিতে লড়তে আগ্রহী হলেও বামফ্রন্ট ইতিমধ্যেই সেখানে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এখনও পর্যন্ত আইএসএফ কোনও কেন্দ্রেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। নওশাদ সিদ্দিকির বক্তব্য অনুযায়ী, ইদের পরেই প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে বাম, কংগ্রেস ও আইএসএফ মিলে ‘সংযুক্ত মোর্চা’ গঠন করেছিল। তবে সেই জোট কার্যত ব্যর্থ হয়। কংগ্রেস ও বামেরা কোনও আসন পায়নি, আইএসএফ একমাত্র ভাঙড় আসনে জয়ী হয়েছিল।
এবার কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে আইএসএফ। এই নতুন সমীকরণ ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।



