ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন করে নড়াচড়া। বিজেপি–তৃণমূলের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিকল্প গড়তে বামেদের সঙ্গে মসৃণ জোট চায় আইএসএফ। সেই লক্ষ্যেই শনিবার আলিমুদ্দিনে গিয়ে সিপিএম ও বামফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সারলেন আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি। আলোচনার কেন্দ্রে—ছাব্বিশের ভোটে জোট, আসন সমঝোতা এবং বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের রূপরেখা।
জোট আলোচনা শুরু করতে আগেই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-কে ইমেল মারফৎ চিঠি পাঠিয়েছিলেন নওশাদ। কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও উত্তর না এলেও, সিপিএমের ইতিবাচক সাড়াতেই শনিবার আলিমুদ্দিনে যান তিনি। সেখানে বিমান বসুর পাশাপাশি সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর সঙ্গে ছাব্বিশের সম্ভাব্য জোট নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।
প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই বৈঠকের পর নওশাদ স্পষ্ট জানান, আলোচনাটি এখনও প্রাথমিক স্তরে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে আসন সমঝোতা নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে কথা এগোবে। তাঁর কথায়, “বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী শক্তিগুলিকে এক ছাতার তলায় আনাই লক্ষ্য। গোটা প্রক্রিয়া যেন মসৃণভাবে এগোয়, সেই দিকেই আজকের আলোচনা।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “জোটের স্বার্থে আইএসএফ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত।”
তবে নওশাদ জানিয়ে দেন, আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রত্যাশা স্পষ্ট—দাবি দুই অঙ্কের আসন, অর্থাৎ দশের বেশি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যেই পরিষ্কার, আইএসএফ জোটে ফিরতে আগ্রহী হলেও নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও প্রভাব বজায় রাখতে চায়।
উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাম–কংগ্রেস–আইএসএফের সংযুক্ত মোর্চা তৈরি হয়েছিল। সেই জোটের প্রার্থী হিসেবেই ভাঙর আসনে জয়ী হন নওশাদ। তবে চব্বিশের লোকসভা ভোটে সেই জোট কার্যত ভেঙে পড়ে। এবার ফের বাম ও কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল–বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে চাইছে আইএসএফ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক ছাব্বিশের আগে বিরোধী শিবিরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।



